আগের দামেই বিদ্যুৎ পেতে যাচ্ছেন লাইফলাইনের গ্রাহকরা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৪:৪০ অপরাহ্ণ
আগের দামেই বিদ্যুৎ পেতে যাচ্ছেন লাইফলাইনের গ্রাহকরা
জাতীয় প্রতিবেদক : দেশজুড়ে পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম এক লাফে অনেকটাই বাড়িয়ে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাত্র এক দিনের মাথায় দেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এক বিশাল স্বস্তির খবর এসেছে। তীব্র জনবিক্ষোভ ও প্রান্তিক মানুষের আর্থিক কষ্টের কথা বিবেচনা করে আবাসিক খাতের 'লাইফলাইন' এবং প্রথম ধাপের ক্ষুদ্র গ্রাহকদের ওপর চাপানো বাড়তি মূল্য সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের বিশেষ আইনি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এই দুই বিশেষ স্তরের বিপুলসংখ্যক গ্রাহক পূর্বের পুরোনো দামেই বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেল ৩টা ৫২ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘জাতীয়’ ও ‘জ্বালানি খাত ও বিদ্যুৎ মূল্য নিয়ন্ত্রণ প্যানেল’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিনে বিদ্যুৎ বিল সংশোধনের এই চাঞ্চল্যকর নেপথ্য তথ্য বিস্তারিত তুলে করা হলো।

সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র থেকে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকালের মধ্যেই দেশের জ্বালানি খাতের একমাত্র আইনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এ বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত ও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দেশবাসীকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিতে পারে। ইতোমধ্যে দেশের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সাধারণ জনগণের অর্থনৈতিক সুরক্ষার স্বার্থে লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ঘোষিত বাড়তি মূল্য দ্রুত প্রত্যাহারের জন্য বিইআরসি-র কাছে একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত আবেদন জমা দিয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ ও পিডিবি-র শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিইআরসি বর্তমানে বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর (ডেসকো, ডিপিডিসি, নেসকো ও পল্লি বিদ্যুৎ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি ভার্চুয়াল আলোচনা করছেন এবং খুব দ্রুতই এই জনবান্ধব প্রস্তাবের আইনি অনুমোদন দেওয়া হবে।

এর আগে মাত্র এক দিন আগে অর্থাৎ গত বুধবার (৩ জুন) বিদ্যুৎ বিভাগের এক বিশেষ আদেশে পাইকারি ও খুচরা—দুই স্তরেই বিদ্যুতের দাম একযোগে এক ধাক্কায় ব্যাপক বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সেই বিতর্কিত নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক puzzle শতাংশ এবং সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়। চলতি জুন মাসের ১ তারিখ থেকেই এই বর্ধিত নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল।

বুধবারের নতুন দরের গ্যাজেট অনুযায়ী, আবাসিক লাইফলাইন (Lifeline) শ্রেণির অতি দরিদ্র গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ৫ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা ছিল আগের পুরোনো দরের তুলনায় ইউনিট প্রতি এক লাফে ৬৯ পয়সা বেশি। এই লাইফলাইন শ্রেণির গ্রাহকেরা মূলত মাসে সর্বোচ্চ ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে থাকেন। সাধারণত গ্রামীণ বা শহরের বস্তি এলাকার একটি ফ্যান এবং মাত্র এক বা দুটি বাতি ব্যবহারকারী নিম্ন আয়ের অতি দরিদ্র পরিবারগুলো এই লাইফলাইন ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত।

এ ছাড়া মাসে ৫১ থেকে সর্বোচ্চ ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী মধ্যবিত্ত বা ‘প্রথম ধাপের’ গ্রাহকদের জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬ টাকা ১৮ পয়সা, যা আগের চেয়ে ইউনিট প্রতি ৯২ পয়সা বেশি ছিল।

তবে আজ পিডিবির পক্ষ থেকে নেওয়া নতুন মূল্য সংশোধনীর আবেদনটি বিইআরসি কর্তৃক চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হলে লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের দাম আগের মতোই প্রতি ইউনিট মাত্র ৪ টাকা ৬৩ পয়সাই বহাল থাকবে। একইভাবে প্রথম ধাপের (০ থেকে ৭৫ ইউনিট) গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ মূল্য আগের মতো ৫ টাকা ২৬ পয়সা হিসেবেই গণনা করা হবে।

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের নীতি-নির্ধারক কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে সমগ্র বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের প্রায় ৬৫ শতাংশই এই প্রান্তিক লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের আওতাভুক্ত। তাই বুধবারের ঘোষিত সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধি যদি কোনো ছাড় ছাড়া বহাল রাখা হতো, তবে দেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের এই বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষের ওপর তীব্র অতিরিক্ত আর্থিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি হতো, যা বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দায় কাম্য নয়।

পিডিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের বড় বড় বাণিজ্যিক খাত থেকে রাজস্ব আদায় করা, প্রান্তিক ও খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের অসহায় গ্রাহকদের সুরক্ষা দেওয়া সরকারের প্রধান সামাজিক দায়িত্ব। সেই কল্যাণকামী দায়িত্ববোধ থেকেই মূল্যবৃদ্ধি দ্রুত প্রত্যাহারের এই ঐতিহাসিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিইআরসি-র সিলমোহর ও সবুজ সংকেত মিললেই চলতি জুন মাস থেকে গ্রাহকেরা আগের পুরোনো ও কম হারেই তাদের বিদ্যুৎ বিল নির্বিঘ্নে পরিশোধ করতে পারবেন।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন