১৮০ দিনে সরকারের বিরুদ্ধে ৪৬৪ অপতথ্য: তথ্য উপদেষ্টা জাহেদুর রহমান

প্রকাশ: রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৯ অপরাহ্ণ
১৮০ দিনে সরকারের বিরুদ্ধে ৪৬৪ অপতথ্য: তথ্য উপদেষ্টা জাহেদুর রহমান
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদুর রহমান (ছবি: সংগৃহীত)

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিগত ১৮০ দিনে সরকারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অন্তত ৪৬৪টি অপতথ্য ও ভুয়া খবর প্রচারিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদুর রহমান। তিনি জানান, এসব অসত্য ও বানোয়াট তথ্যের মধ্যে ১৫৭টি ছড়ানো হয়েছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে।

আজ রবিবার (৩০ আগস্ট ২০২৬) বরেণ্য সাংবাদিক আব্দুস সালামের ১১৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “সরকারের বিরুদ্ধে যে বিপুল পরিমাণ অপতথ্য প্রচার করা হয়েছে, তার মধ্যে ১৫৭টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। এছাড়া মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে যতগুলো বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে, তার তালিকায় শীর্ষের দিকে আমার অবস্থানও রয়েছে।”

অপতথ্য প্রচারের তীব্রতা সত্ত্বেও সরকার মুক্তচিন্তার পক্ষে অনড় থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই—এই সরকার স্বাধীন মতপ্রকাশের ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদার ছিল এবং ভবিষ্যতেও উদার থাকবে। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় উদার থাকাটাই স্বাভাবিক এবং অপরিহার্য। গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করে কোনো গণতান্ত্রিক সরকার, যা ভবিষ্যতে পুনরায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ফিরে আসতে চায়, তার কোনো ফায়দা হতে পারে না।”

গণমাধ্যমের সাথে সুসম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে জাহেদুর রহমান বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সম্পাদকদের সাথে মতবিনিময়কালে স্পষ্ট করেই বলেছিলেন—সংবাদপত্র বা মিডিয়ার সাথে সংঘাতে জড়িয়ে সরকারের কোনো সুফল বা বেনিফিট নেই। প্রকৃতপক্ষে কোনো কল্যাণ নেই। কেবল স্বৈরাচারী ও কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলোই সবসময় মতপ্রকাশের পরিসরকে সংকুচিত করার অপচেষ্টা চালায়, যার বিরুদ্ধে অতীতে সাংবাদিক আব্দুস সালামকে সোচ্চার হয়ে এক ধরনের কার্যকর অ্যাক্টিভিজম করতে হয়েছিল।”

ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, “আমরা আব্দুস সালামের আদর্শকে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে ধারণ করব। একই সাথে বলতে চাই, বাংলাদেশে আরেকটি রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান হোক—তা আমরা কেউই প্রত্যাশা করি না। আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ কিংবা ওয়াসিম আকরামের মতো বীর সন্তানদের আত্মত্যাগকে আমরা আজীবন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করব, কিন্তু আমরা চাই না আর কোনো তরুণের তাজা প্রাণ এভাবে ঝরে পড়ুক। এর অর্থ হলো, বাংলাদেশ যেন ভবিষ্যতে একটি টেকসই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত থাকে, যেখানে যেকোনো সরকার পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে কেবল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে।”

সরকারের জবাবদিহিতা ও সীমাবদ্ধতার কথা অকপটে স্বীকার করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের সরকার সবকিছু নির্ভুল বা শতভাগ নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করতে পারবে না। অনেক বিষয়ে যৌক্তিক সমালোচনা থাকতে পারে, আমাদের ব্যর্থতা কিংবা ভুলভ্রান্তিও হতে পারে। সুতরাং ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অন্য কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা নতুন নেতৃত্ব জনগণের ভোটে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবেন—এটাই স্বাভাবিক। আমরা শুধু চাই কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বা অসাংবিধানিক উপায়ে যেন সরকার পরিবর্তন না ঘটে। আর সেই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা যেন আমরা সবাই মিলে গড়ে তুলতে পারি। অপতথ্য প্রতিরোধ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার বিকাশে পিআইবি এবং এর বর্তমান মহাপরিচালক অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছেন, এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বজায় রাখতে হবে।”

মন্তব্য করুন