কালকিনিতে জমি নিয়ে বিরোধে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ

প্রকাশ: রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:০২ অপরাহ্ণ
কালকিনিতে জমি নিয়ে বিরোধে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ
অন্তঃসত্ত্বা নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ

বি. এম. হানিফ, কালকিনি ও ডাসার প্রতিনিধি: মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় জমিজমা ও পারিবারিক পূর্ব বিরোধের জেরে ফাতেমা তুজ জোহরা (৩১) নামে ছয় মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বর্বরোচিত ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর মা সালমা বেগম বাদী হয়ে অভিযুক্ত সাতজনের নাম উল্লেখ করে কালকিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগপত্র ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ আগস্ট বিকেলে কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তদের জমিজমা ও পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন গাছ থেকে পেয়ারা পাড়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ দাদন খান ভুক্তভোগীর দেবরকে বসতবাড়ির সামনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন।

একপর্যায়ে দাদন খানের নেতৃত্বে বাদল খান, ময়না বেগম ও জসিম খানসহ সংঘবদ্ধ সাত থেকে আটজনের একটি দল জোরপূর্বক ওই বাড়িতে অনাধিকার প্রবেশ করে চড়াও হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ঘরে ঢুকে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ফাতেমা তুজ জোহরাকে চুল ধরে টেনেহিঁচড়ে উঠানে বের করে আনে। এরপর তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম করে এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয় প্রতিবেশী ও স্বজনরা দ্রুত এগিয়ে এসে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ বিষয়ে জানতে প্রধান অভিযুক্ত দাদন খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম জানান, “অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধরের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মন্তব্য করুন