ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাড় হলো ক্যালকেনিয়াম বা গোড়ালির হাড়। দাঁড়ানো বা হাঁটার সময় এটিই প্রথম মাটির সংস্পর্শে আসে এবং শরীরের পুরো ওজন বহন করে। অনেক সময় এই হাড়ের নিচে বা পেছনে অতিরিক্ত হাড় গজে ওঠে, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় 'হিল স্পার' বলা হয়। সামান্য এই অসঙ্গতিও হাঁটাচলায় তীব্র যন্ত্রণার কারণ হতে পারে।
১. অস্বস্তিকর জুতা: দীর্ঘ সময় শক্ত বা ভুল মাপের জুতা পরলে স্পার তৈরি হতে পারে। ২. শরীরের অতিরিক্ত ওজন: শরীরের ওজন বেশি হলে গোড়ালির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে, যা হাড় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। ৩. পেশির দুর্বলতা: পায়ের পেশি দুর্বল হলে টেনডন ও ফাসিয়ার ওপর চাপ বাড়ে। ৪. দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ: প্লান্টার ফাসিয়া বা টেনডনে দীর্ঘদিনের ইনফ্লামেশন বা প্রদাহ থেকে হাড় গজাতে পারে। ৫. আর্থ্রাইটিস: রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা অস্টিওআর্থ্রাইটিসের কারণেও এ সমস্যা হয়। এছাড়া বংশগত কারণও এর পেছনে দায়ী হতে পারে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথম পা ফেলার সময় তীব্র ব্যথা।
অনেকক্ষণ বসে থাকার পর হাঁটা শুরু করলে ব্যথা অনুভূত হওয়া।
কিছুক্ষণ হাঁটাচলার পর ব্যথা কমে আসা, তবে বিশ্রামের সময় সাধারণত ব্যথা থাকে না।
পায়ের তলা লাল হওয়া বা হিলপ্যাড পাতলা ও শুষ্ক হয়ে যাওয়া।
সঠিক জুতা: হিল ও আর্চ সাপোর্টযুক্ত নরম জুতা ব্যবহার করুন।
সেঁক দেওয়া: দিনে দুবার কুসুম গরম পানি বা ঠান্ডা পানির সেঁক দিলে আরাম পাওয়া যায়।
ম্যাসেজ ও ব্যায়াম: সকালে ওঠার পর পায়ের তলায় হালকা ম্যাসেজ এবং নিয়মিত স্ট্রেচিং ব্যায়াম করা জরুরি।
চিকিৎসা: বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ব্যথানাশক ওষুধ বা বিশেষ ক্ষেত্রে স্টেরয়েড ইনজেকশন নেওয়া যেতে পারে। তবে ইনজেকশনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হয়।
থেরাপি: এসডব্লিউডি (SWD), ইউএসটি (UST) বা ওয়াক্স বাথ থেরাপি বেশ কার্যকর।
সার্জারি কখন প্রয়োজন? যদি কোনো ওষুধ বা থেরাপিতে কাজ না হয় এবং ব্যথা বারবার ফিরে আসে, তবে আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। এই পদ্ধতিতে ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত হাড় অপসারণ করা হয়, যাতে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞ অর্থোপেডিক সার্জনের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ