কফি নয়, যে অভ্যাসগুলো আপনার মনোযোগ বাড়াতে পারে
আধুনিক জীবনে সজাগ থাকতে কফি বা এনার্জি ড্রিংকস এখন অনেকেরই প্রধান ভরসা। তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন নির্ভরতা অনেক সময় অস্থিরতা, অনিদ্রা বা দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম উদ্দীপকের ওপর নির্ভর না করে কিছু প্রাকৃতিক অভ্যাসের মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ও মনোযোগ বাড়ানো সম্ভব।
মস্তিষ্কের সক্ষমতা সচল রাখতে ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। সাত থেকে আট ঘণ্টা গভীর ঘুম তথ্য প্রক্রিয়াকরণ দ্রুত করে এবং দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়িকে (Body Clock) নিয়ন্ত্রণ করে, যা দিনের বেলায় আপনাকে সজাগ রাখে।
ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত ৩০ মিনিট প্রাকৃতিক আলোর সংস্পর্শে থাকা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি ঠিক রাখে এবং ঘুমের মান উন্নত করে, যা পরোক্ষভাবে দিনের বেলা মনোযোগ তীক্ষ্ণ করতে সহায়তা করে।
মস্তিষ্ক নড়াচড়ায় ভালো সাড়া দেয়। দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে না থেকে কাজের ফাঁকে হালকা স্ট্রেচিং বা দ্রুত হাঁটাচলা করলে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। এটি এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসরণ করে মেজাজ ফুরফুরে রাখে এবং মানসিক সতর্কতা বাড়ায়।
মস্তিষ্ক একটানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। প্রতি ২৫-৩০ মিনিট কাজ করার পর ৫ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বিরতি নিন। এই বিরতিগুলো মস্তিষ্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমায় এবং কাজের ক্লান্তি দূর করে নতুন উদ্যমে মনোযোগ দিতে সাহায্য করে।
শরীরে সামান্য পানিশূন্যতাও মেমোরি ও মনোযোগ কমিয়ে দিতে পারে। তাই সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন। সেই সাথে স্বাস্থ্যকর খাবার মস্তিষ্কের পুষ্টি নিশ্চিত করে।
আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অফ হেলথ এবং সিডিসি-র গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের অভাব ও পানিশূন্যতা সরাসরি মানুষের জ্ঞানীয় কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই কফির কাপে চুমুক দেওয়ার আগে জীবনযাপনের এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো আপনার মানসিক স্বচ্ছতা ও একাগ্রতা বৃদ্ধিতে অনেক বেশি টেকসই ভূমিকা রাখতে পারে।
জান্নাত/সকালবেলা
|