ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের পর ইসলামাবাদ-ওয়াশিংটন সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত: মার্কিন আইনপ্রণেতাদের প্রশংসা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের পর ইসলামাবাদ-ওয়াশিংটন সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত: মার্কিন আইনপ্রণেতাদের প্রশংসা
রাওয়ালপিন্ডির জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাথে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির

অনলাইন ডেস্ক: আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুবাতাস ছড়িয়ে দিতে পাকিস্তানের ভূমিকা ও ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুই শীর্ষ আইনপ্রণেতা। গত সোমবার রাওয়ালপিন্ডিতে অবস্থিত সেনাবাহিনীর জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে (জিএইচকিউ) পাকিস্তানের সেনাপ্রধান (চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস) ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তাঁরা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আন্তঃসেবা জনসংযোগ দফতর (আইএসপিআর) থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মার্কিন সংসদীয় দলে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য রায়ান কিথ এবং ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য মাইকেল জেমস। বৈঠককালে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় বিষয়াদি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার নানান কৌশলগত দিক নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বেসরকারি খাতের পারস্পরিক অংশগ্রহণ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হয়।

বৈঠকে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির পাকিস্তানের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও সমৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে বলেন, “একটি অঞ্চলের স্থায়ী ও টেকসই স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি লুকিয়ে আছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্যের প্রসার এবং আন্তঃআঞ্চলিক যোগাযোগের ভেতরে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে উৎসাহ দিতে এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে পাকিস্তান সরকার বেশ কিছু মৌলিক ও কাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করছে।

আইএসপিআর আরও জানায়, বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল পাকিস্তানি সামরিক নেতৃত্বের উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে। সামরিক কর্মকর্তা ও প্রতিনিধি দল উভয় পক্ষই দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান অর্থনৈতিক, সামরিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

ইতিহাসগতভাবে নিরাপত্তা, বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াই, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে বহুকালের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতামূলক কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। অতীতের নানান উত্থান-পতন পেছনে ফেলে উভয় দেশই বর্তমানে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

সম্প্রতি ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র চরম সংঘাতময় পরিস্থিতিতে কার্যকর যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান সরকারের জোরালো কূটনৈতিক মধ্যস্থতার পর ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের পুরোনো সম্পর্কে নতুন গতির সঞ্চার হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ইতিপূর্বে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পাকিস্তানের কার্যকর ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের এই পদক্ষেপকে বিশেষ স্বীকৃতি প্রদান করেন।

মন্তব্য করুন