দেশজুড়ে অপরাধ দমনে কঠোর পুলিশি অভিযান
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
জাতীয় ডেস্ক: সরকারের ঘোষিত অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ দমন, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়াতে বড় আকারের সমন্বিত অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যৌথ অংশগ্রহণে এই কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।পুলিশ সদর দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ মে থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত নিয়মিত ও বিশেষ যৌথ অভিযানে মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৭২৫ জন সন্দেহভাজন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ দেশব্যাপী অভিযানে গ্রেপ্তার হন ৩২ হাজার ৯০৮ জন এবং নিয়মিত মামলায় আটক করা হয় ৮৩ হাজার ৮১৭ জনকে।অভিযান পরিচালনাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশজুড়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক ও দেশীয় সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ২৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র (যার মধ্যে ৭৬টি পিস্তল, ৫০টি বন্দুক, ৩৩টি এলজি, ৩০টি শুটার গান, ১৮টি রিভলভার, ১৫টি পাইপগান, ২টি এসএমজি ইত্যাদি), ২ হাজার ৩১৩ রাউন্ড গুলি, ৮৮টি ম্যাগাজিন, ৪৩টি দেশীয় বিস্ফোরক, ২ কেজি গানপাউডার, ৫০৩টি দেশীয় অস্ত্র এবং ১০ হাজারের বেশি ‘চকলেট বোমা’।একই সময়ে পরিচালিত তীব্র মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায় ৭৬ লাখ ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৮ হাজার ২৮৪ প্যাকেট হেরোইন, ৩ হাজার ১৮৬ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৮ ৩৫ বোতল বিদেশি মদ এবং ৫ হাজার ৩৩৬ প্যাকেট গাঁজাসহ বহু মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। এসব ঘটনায় মাদক সংক্রান্ত মোট ১৪ হাজার ১৫৭টি মামলা দায়েরসহ ২০ হাজার ৪৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ককে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি এবং ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ক্যামেরার নজরদারিতে আনা হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ফারুক আহমেদ জানান, এই এআইভিত্তিক প্রযুক্তি কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে মহাসড়কে ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে কার্যকারী ভূমিকা রাখছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এ প্রসঙ্গে জানান, দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার ও জননিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পাদন ও ঢাকা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নত করতে কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় অপরাধে যুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, অপরাধীর রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ সকল পুলিশ সদস্যকে নিরপেক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন। দায়িত্ব পালনে অসাধারণ পারদর্শিতা দেখালে পুরস্কার এবং অবহেলা বা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করলে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কেবল ঢাকা মহানগর এলাকাতেই প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০০ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করছে ডিএমপি।
|