খামেনির জানাজায় ট্রাম্পকে হত্যার স্লোগানের পর ইরানকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৫ অপরাহ্ণ
ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে হত্যার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ভয়াবহ সামরিক জবাব দেবে।
তিনি লেখেন, "এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং সেগুলোর লক্ষ্য ইরান। প্রয়োজন হলে আরও হাজারো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হবে। ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে হত্যা বা হত্যার চেষ্টা করে, তবে এক বছরের জন্য—প্রয়োজনে মেয়াদ বাড়িয়ে—যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের সব এলাকা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেবে।"
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, সপ্তাহের শুরুতে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে ট্রাম্পকে হত্যার একটি নতুন ও নির্দিষ্ট ইরানি পরিকল্পনার বিষয়ে সতর্ক করে। সিএনএন জানায়, ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী এটি একটি সক্রিয় পরিকল্পনা। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও এ হুমকিকে "সাম্প্রতিক" বলে উল্লেখ করেছে।
২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে আসছে তেহরান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এই হুমকির কারণে ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্ক থেকে ফেরার সময় ট্রাম্পকে ব্যবহৃত বিমান পরিবর্তনের পরামর্শ দেয় মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস।
কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিলেও ট্রাম্প জানিয়েছেন, শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা এখনও চলছে।
তিনি বলেন, "ইরান আমাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চেয়েছে। আমরা তাতে সম্মত হয়েছি। তবে তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে।"
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখেও আত্মসমর্পণ না করার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।
তিনি বলেন, "আমরা কখনোই দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি বন্ধ করিনি। যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা ভঙ্গ করলে পূর্ণমাত্রার প্রতিরক্ষার জন্য আমরা প্রস্তুত। যুদ্ধের অবসান বিশ্ববাসীর অগ্রাধিকার হতে পারে, কিন্তু কেউ যেন মনে না করে ইরান আত্মসমর্পণের মাধ্যমে এই সংঘাতের ইতি টানবে।"
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যেও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরান সফর করেছেন।
ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার জন্য ওমানের রাজধানী মাসকাটে অবস্থান করছেন।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি মাহমুদ আবদেলওয়াহেদ বলেন, সর্বশেষ উত্তেজনা প্রশমনের পর স্থবির হয়ে পড়া আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। তবে সাম্প্রতিক মার্কিন হামলা ও ট্রাম্পের বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে ইরানি কর্মকর্তারা এখনও সন্দিহান।
ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি কিম্বারলি হ্যালকেট জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো—যে কোনো চুক্তির জন্য ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সীমাবদ্ধতা মেনে নিতে হবে এবং তাদের পারমাণবিক উপকরণ হস্তান্তর করতে হবে। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পর তারা ইরানের প্রতি কঠোর আল্টিমেটামও দিয়েছে।
|