আজই চুক্তি সই নিয়ে ট্রাম্পের তাড়াহুড়ো

প্রকাশ: রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:৪৭ অপরাহ্ণ
আজই চুক্তি সই নিয়ে ট্রাম্পের তাড়াহুড়ো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও চলমান যুদ্ধ কন্ডিশন অবসানের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যকার প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক নাটকীয় ও ধোঁয়াশাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ রোববারই (১৪ জুন) ইরানের সাথে একটি চূড়ান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা ব্যক্ত করলেও, তেহরান এই দাবিকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে ওয়াশিংটনকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ফার্স নিউজ এজেন্সি’ (Fars News Agency) আজ এক বিশেষ প্রতিবেদনে চুক্তি সইয়ের বিষয়ে তেহরানের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হওয়ার কন্ডিশনটি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে।

আজ রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘গ্লোবাল পলিটিক্স, মিডল ইস্ট ক্রাইসিস ও ট্রিপল অ্যালায়েন্স কূটনীতি খতিয়ান’ এবং ‘ফরেন পলিসি মেকিং, নিউক্লিয়ার ডিল ট্র্যাকিং ও জিওপলিটিক্যাল স্ট্র্যাটেজি উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক লড়াই ও হরমুজ প্রণালির বর্তমান সমীকরণের খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

আন্তর্জাতিক কূটনীতির ট্র্যাকিং খতিয়ান অনুযায়ী, ভিয়েনা ও ওমানে চলমান পর্দার আড়ালের আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি আলোচক দলের ঘনিষ্ঠ একটি নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ফার্স নিউজ এজেন্সি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, “আমেরিকার পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকের (MoU) খসড়া নিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণাও তেহরান থেকে দেওয়া হয়নি।”

প্রস্তাবিত এই চুক্তিটি ইরানের অভ্যন্তরে বিশেষ করে দেশের কট্টরপন্থী রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েছে। ইরানি কট্টরপন্থী নেতাদের দাবি, এই চুক্তির বর্তমান খসড়া মেথডলজি কোনোভাবেই ইরানের জাতীয় ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করবে না। উল্টো বিশ্বের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক রুট ও কৌশলগত জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’র (Strait of Hormuz) ওপর তেহরানের যে একক নিয়ন্ত্রণ, সামরিক প্রভাব ও সার্বভৌমত্ব রয়েছে, এই চুক্তির আইনি মেথডে তেহরান সেই অধিকার থেকে চিরতরে বঞ্চিত হবে।

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন কন্ডিশন থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাতে ইরানের সঙ্গে আজ রোববারের মধ্যেই একটি চুক্তি সই হতে পারে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, চুক্তিটি সম্পন্ন হওয়ার পরপরই রণকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও সবার চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

তবে ট্রাম্পের এই তড়িঘড়ি চুক্তি সইয়ের মেথড নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া ও খোঁচা দিয়েছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী’ (IRGC)। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যেখানে খোদ ইরানি প্রধান আলোচকেরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে সমঝোতা স্মারকটি এখনও চূড়ান্ত রূপ পায়নি, সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে অস্বাভাবিকভাবে আজই চুক্তি সই করার জন্য একতরফা মানসিক চাপ সৃষ্টি করছেন। আজ ১৪ জুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মদিন উল্লেখ করে আইআরজিসি খতিয়ান টেন বলেছে, ট্রাম্প মূলত তাঁর জন্মদিনে এই মেগা চুক্তিটি সই করে বিশ্ব গণমাধ্যমে এটিকে নিজের একটি বিশাল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রচারণা (Propaganda) হিসেবে ব্যবহার করার অপকৌশল সাজিয়েছেন।

এর আগে, গত শনিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ডেমোক্র্যাট সরকারকে ধুয়ে দিয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ (Truth Social)-এ একটি দীর্ঘ ও বিস্ফোরক পোস্ট দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘জেসিপিওএ’ (JCPOA) বা ইরান পারমাণবিক চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেন।

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “বারাক ওবামার ইরানের সঙ্গে করা সেই চুক্তিটি ছিল মূলত ইরানের জন্য পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর একটা সহজ, সুন্দর ও মসৃণ রাজপথ। ওই ক্ষতিকর চুক্তিটি বহাল থাকলে ইরান অন্তত ছয় বছর আগেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হয়ে যেত এবং এতদিনে মধ্যপ্রাচ্যে তা ব্যবহারও করে ফেলত। কিন্তু আমি এসে তা রুখে দিয়েছি।” তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের সাথে বর্তমান বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের সরকারের চেয়ে তাঁর সরকারের সম্পর্ক অনেক বেশি কার্যকর ও ভালো কন্ডিশনে রয়েছে এবং ইরান এখন আর পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। ট্রাম্প স্পষ্ট মেথডে বলেন, “ইরানের সাথে আমার বর্তমান চুক্তিটি ঠিক পূর্বের উল্টো—এটি ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র ঠেকানোর একটা নিরেট ও অভেদ্য দেয়াল! সত্যি বলতে, তারা এখন আর কোনো পারমাণবিক অস্ত্র চায়ও না, আর আমার মেথড অনুযায়ী কোনোভাবেই তা পাবেও না।”

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন