রাশিয়ান 'এসকর্টের' বোমায় প্রাণ গেল সাবেক ইউক্রেনীয় ও রুশ নৌ কর্মকর্তা শাগেয়েভের

প্রকাশ: রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৭ অপরাহ্ণ
রাশিয়ান 'এসকর্টের' বোমায় প্রাণ গেল সাবেক ইউক্রেনীয় ও রুশ নৌ কর্মকর্তা শাগেয়েভের
রাশিয়া অধিকৃত ক্রিমিয়ায় বিস্ফোরণে মারা যান ৪৯ বছর বয়সি রবার্ট শাগেয়েভ; ঘটনায় অভিযুক্ত মার্গারিটা রেউট পুলিশি হেফাজতে।

রাশিয়া অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে ডাস্টবিনে রাখা বোমার বিকট বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন রুশ কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও সাবেক ইউক্রেনীয় নৌ কমান্ডার রবার্ট শাগেয়েভ (৪৯)।

রোববার (১৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও অন্যান্য সূত্রের বরাতে এ খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মার্গারিটা রেউট (৩২) নামে এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা।

যেভাবে হামলা চালানো হয়:

তদন্তকারীদের মতে, ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপোলের এক আবাসিক ভবনের সিঁড়ি দিয়ে শাগেয়েভ নিচে নামার সময় একটি ময়লার পাত্রে লুকিয়ে রাখা শক্তিশালী আইইডি বিস্ফোরিত করা হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে স্থানীয় অধিবাসীরা প্রথমে এটিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা বলে মনে করেছিলেন। ঘটনাস্থলেই শাগেয়েভ মারা যান।

ক্রিমিয়ার রুশ নিযুক্ত গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ জানান, গ্রেপ্তারকৃত রেউট ইউক্রেনীয় বিশেষ বাহিনীর নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। পরবর্তীতে রাশিয়া ছেড়ে পালানোর ছক কষলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপরাধের জন্য তার কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানিয়েছে রুশ সংবাদ মাধ্যম।

কে এই মার্গারিটা রেউট?

ইয়ারোস্লাভলে জন্ম নেওয়া মার্গারিটা রেউট পেশায় একজন জীববিজ্ঞানী হলেও পরবর্তীতে নারীদের প্রসাধনী সামগ্রী তৈরির ব্যবসায় যুক্ত হন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি পূর্বে ‘এসকর্ট’ সংক্রান্ত একটি ওয়েবসাইটেও কাজ করতেন।

এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ট্রেনে ইউক্রেনপন্থী মন্তব্য করার অভিযোগে তাঁকে দুদিন আটক ও জরিমানা করা হয়েছিল। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে, যাতে তার সর্বোচ্চ ৩০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

কে ছিলেন নিহত রবার্ট শাগেয়েভ?

নিহত রবার্ট শাগেয়েভ ২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করার আগে পর্যন্ত ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর দায়িত্বে ছিলেন। সে সময় তিনি ইউক্রেনের একমাত্র সাবমেরিন 'জাপোরিঝঝিয়া'র ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

তবে ক্রিমিয়া দখলের পর তিনি আনুগত্য পরিবর্তন করে রুশ বাহিনীতে যোগ দেন। যার ফলে ইউক্রেন সরকার তাকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ হিসেবে অভিযুক্ত করে। ২০২২ সালে শুরু হওয়া পূর্ণমাত্রার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে তার নেতৃত্বাধীন ইউনিট থেকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে কিয়েভের।

মন্তব্য করুন