ইউক্রেনে ভারতীয় ফার্মা গোডাউনে রুশ ড্রোন হামলা, নিহত ১
অনলাইন ডেস্কঃ ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় সুমি শহরে ভারতীয় মালিকানাধীন একটি ফার্মাসিউটিক্যাল গোডাউনে রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন হামলায় ১ জন নিহত এবং একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন।
রবিবার (৫ অক্টোবর) সকালে ইউক্রেনজুড়ে পরিচালিত রাশিয়ার একগুচ্ছ আকাশপথের হামলার অংশ হিসেবে এই ঘটনা ঘটে।
দিল্লিতে অবস্থিত ইউক্রেনীয় দূতাবাস থেকে এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত গোডাউনটি ভারতীয় ফার্মা কোম্পানি ‘কুসুম গ্রুপ’-এর মালিকানাধীন ছিল, যেখানে স্থানীয় বেসামরিক মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজনীয় ওষুধ তৈরি ও সংরক্ষণ করা হতো। তবে এ ঘটনা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কুসুম গ্রুপ কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, শনিবার মাঝরাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে অন্তত ১৩৫টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এর মধ্যে ৫০টিরও বেশি ড্রোন ছিল দ্রুতগতির জেটচালিত। সকালে সুমি শহরের ওই ফার্মা গোডাউনটিতে একাধিক ড্রোন সরাসরি আছড়ে পড়লে বিকট বিস্ফোরণে পুরো ভবনটিতে দাউদাউ করে আগুন ধরে যায় এবং এলাকাটি কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।
সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকেরা একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্য ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, সুমি শহরের পাশাপাশি কিয়েভ, ডিনিপ্রো, খারকিভ, দোনেৎস্ক এবং জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলগুলোতেও একই রাতে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এসব হামলায় বেসামরিক নাগরিক আবাসন এবং বিদ্যুৎ পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বেশ কয়েকটি জেলা ও এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ড্রোন হামলায় হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনের বেসামরিক পরিকাঠামোয় বিমান হামলার জবাবে রাশিয়া অভ্যন্তরের তেল শোধনাগার বা রিফাইনারিগুলোতে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হামলা আরও জোরদার করা হবে। তবে ইউক্রেন কোনো সাধারণ নাগরিককে লক্ষ্যবস্তু করবে না বলে তিনি যোগ করেন।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, কিয়েভসহ পুরো ইউক্রেনের সামরিক পরিকাঠামো, অস্ত্র কারখানা ও সংশ্লিষ্ট সামরিক কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে তাদের হামলা ও কৌশলগত আক্রমণ আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়ানো হবে।