মেসিকে বেনিন গোলরক্ষকের হুংকার: 'গোল করতে হলে সেরাটা দিয়েই করতে হবে'

প্রকাশ: সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৪ অপরাহ্ণ
মেসিকে বেনিন গোলরক্ষকের হুংকার: 'গোল করতে হলে সেরাটা দিয়েই করতে হবে'

ক্রীড়া ডেস্কঃ বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক রিভার প্লেট স্টেডিয়াম প্রস্তুত হচ্ছে এক মহাকাব্যিক ক্ষণের জন্য। আগামী বুধবার (বাংলাদেশ সময় ৭ অক্টোবর ভোর ৫টায়) আফ্রিকান দেশ বেনিনের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলতে মাঠে নামবেন বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি।

পুরো ফুটবল বিশ্বের নজর যখন মেসির এই বর্ণাঢ্য বিদায়কে রঙে রঙে রাঙিয়ে তোলার দিকে, ঠিক তখনই মাঠে মেসিকে এক ইঞ্চিও ছাড় না দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বেনিনের ২৮ বছর বয়সী গোলরক্ষক মার্সেল দানজিনু।

স্প্যানিশ বিখ্যাত ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্সেল সাফ জানিয়েছেন, মাঠের লড়াইয়ে মেসির প্রতি শ্রদ্ধা থাকবে ঠিকই, তবে গোল দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো শিথিলতা দেখানো হবে না।

মেসিকে আটকানো প্রসঙ্গে চ্যালেঞ্জের সুর তুলে বেনিন গোলরক্ষক বলেন, "না, না! আমি দলের একজন পেশাদার গোলরক্ষক এবং আমার মূল দায়িত্বই হলো যেকোনো মূল্যে বল আটকানো। খেলার একদম শেষ মিনিটেও যদি প্রতিপক্ষ পেনাল্টি পায় এবং মেসি নিজে শট নিতে আসেন, আমি আমার সর্বশক্তি দিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা করব। বিষয়টি খুবই পরিষ্কার—ফুটবল খেলাটাই এমন!"

কিংবদন্তি মেসির প্রতি নিজের শ্রদ্ধা প্রকাশ করে মার্সেল আরও বলেন, "আমরা অবশ্যই এখানে মেসির অসাধারণ ফুটবল ক্যারিয়ারকে সম্মান জানাতে ও উদযাপন করতে এসেছি। কিন্তু কেউ আমাদের তাঁকে একটা গোল উপহার হিসেবে ছেড়ে দিতে বলেনি। আর মেসিকে যতটা চিনি, কোনো কিছু এভাবে উপহার পাওয়ার প্রয়োজন তাঁর নেই। তিনি যদি নিজের শেষ ম্যাচে গোল পেতে চান, তবে তাঁকে নিজের সেরাটা দিয়েই তা মাঠ থেকে অর্জন করে নিতে হবে।"

ম্যাচ শেষে মেসির ব্যবহৃত বিশ্বখ্যাত ১০ নম্বর স্মারক জার্সিটি কে পাবেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে রসিকতার ছলে মার্সেল বলেন, "আমাদের দলের যেকোনো খেলোয়াড়কে জিজ্ঞেস করলে সে একবাক্যে বলবে—সে মেসির জার্সি চায়! তাই আয়োজকরা যদি অনেকগুলো বিশেষ জার্সি বানিয়ে আমাদের দলের প্রতিটি খেলোয়াড়কে একটা করে দিত, তবে দারুণ হতো! কারণ আমাদের দল থেকে কেবল একজন যদি জার্সি চাইতে যায়, তবে কাজটা মোটেও সহজ হবে না—আমরা যে সবাই শেষ পর্যন্ত ওই একটি জার্সিই পেতে চাইব!"

প্রতিপক্ষ হিসেবে হলেও মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ঐতিহাসিক মুহূর্তটির সাক্ষী হতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন এই বেনিন গোলরক্ষক। আবেগপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, "মেসির বিদায়ী এই ম্যাচটিতে অংশ নিতে পারা আমার জীবনের অন্যতম বড় এক সম্মান। এই স্মৃতি আমার মনে চিরকাল গেঁথে থাকবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পরম গর্বের সঙ্গে বলতে পারব—আমি বিশ্ব ফুটবলের এক মহান কিংবদন্তির শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে উপস্থিত ছিলাম।"