নিরাপদ থাকতে চাইলে অঞ্চল ছাড়ুন: মার্কিন বাহিনীকে ইরানের কঠোর হুশিয়ারি
আজ বুধবার (১০ জুন) সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘আন্তর্জাতিক রাজনীতি, মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও যুদ্ধ পরিস্থিতি’ এবং ‘দক্ষিণ এশীয় ভূরাজনীতি, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা ট্র্যাকিং উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে পারস্য উপসাগরের সর্বশেষ ভূরাজনৈতিক খতিয়ান ও আরাগচির হুশিয়ারির বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হলো।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাগচি মঙ্গলবার তাঁর দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের যেকোনো ধরণের হামলার তাৎক্ষণিক ও দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চলমান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংঘাতে একাধিক যুদ্ধক্ষেত্রে শোচনীয় পরাজয় সত্ত্বেও ওয়াশিংটন সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে ‘আমাদের পরীক্ষা করার ভুল পথ বেছে নিয়েছে’।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক অত্যন্ত জোরালো ও আক্রমণাত্মক পোস্টে আরাগচি লিখেছেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে স্পষ্ট পরাজয় সত্ত্বেও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে আমাদের শক্তি পরীক্ষা করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। আমরা স্পষ্ট করে দিতে চাই, আমাদের শক্তিশালী ও ঈমানী শক্তিতে বলীয়ান সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো ধরণের হামলা বা হুমকির উপযুক্ত জবাব না দিয়ে ছাড়বে না। যদি নিজেদের জীবন ও বাহিনীকে নিরাপদ রাখতে চান, তবে অবিলম্বে আমাদের পবিত্র অঞ্চল ছেড়ে চলে যান। পারস্য উপসাগরের দীর্ঘ ও ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডিতে অনুপ্রবেশকারী বহিরাগত শক্তির ভয়াবহ পরিণতির অনেক রক্তাক্ত অধ্যায় রয়েছে, যা ওয়াশিংটনের ভুলে যাওয়া উচিত হবে না।”
বাস্তবতা হলো, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক যান চলাচলের ওপর কথিত ইরানি হুমকির অজুহাত তুলে সম্প্রতি ইরানের একাধিক কৌশলগত সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে জোরালো হামলা চালায় মার্কিন ফাইটার জেট। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে আজ বুধবার (১০ জুন) সকাল পর্যন্ত সর্বশেষ মার্কিন উসকানির পর ইরানের পক্ষ থেকে কোনো বড় ধরণের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া যায়নি। তবে দুই দেশের এই অনড় অবস্থানের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক কমোডিটি বা পণ্য বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনার কারণে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার লক্ষ্যে পর্দার অন্তরালে চলা পরোক্ষ শান্তি আলোচনা বড় ধরণের বাধার মুখে পড়েছে। ওয়াশিংটনের ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা তাঁদের এই সামরিক আগ্রাসনকে মার্কিন স্বার্থে ‘আত্মরক্ষা ও বড় সাফল্য’ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে জাহির করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিপরীতে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকেরা নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত অনড় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। ভূরাজনীতি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি যেভাবে দ্রুত মোড় নিচ্ছে, তাতে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে তা একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
জান্নাত সকালবেলা
|