ট্রাম্পের চুক্তি মানতে বাধ্য নয় ইসরায়েল: বেন গভির
আজ সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘গ্লোবাল পলিটিক্স, মিডল ইস্ট মনিটরিং ও বিশ্ব সংবাদ খতিয়ান’ এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস, ডিফেন্স স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড জিও-পলিটিক্যাল অ্যানালাইসিস উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে এই উত্তেজনার ভেতরের সমীকরণ বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
নিরাপত্তা ট্র্যাকিং খতিয়ান অনুযায়ী, বেন-গভির তাঁর পোস্টে দাবি করেছেন, ইসরায়েল একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং তারা কোনোভাবেই মার্কিন প্রটোকলের অধীনে নয়। তিনি বলেন, “এই চুক্তিতে আমরা কোনো অংশীদার নই, কারণ এটি আমাদের উত্তরাঞ্চলীয় বসতিগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ। আমাদের যোদ্ধারা লেবাননের যে এলাকাগুলো সন্ত্রাসী অবকাঠামো থেকে মুক্ত করেছে, সেখান থেকে পিছু হটার কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই।”
বেন-গভিরের মতে, হিজবুল্লাহকে (Hezbollah) সম্পূর্ণ নির্মূল করা ছাড়া অন্য কোনো আপসে তারা যাবে না। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, ইসরায়েলের দিকে সামান্যতম গুলি ছোড়া হলেও তারা আর আগের মতো নীরব থাকবে না, বরং পূর্ণ সামরিক শক্তি দিয়ে তার জবাব দেওয়া হবে।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই চুক্তি নিয়ে তীব্র দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। বিরোধী দল ‘দ্য ডেমোক্র্যাটস’-এর নেতা ইয়ার গোলান (Yair Golan) সরাসরি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে এই চুক্তিতে ‘আত্মসমর্পণ’ করার দায়ে অভিযুক্ত করেছেন। গোলান অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েলের পাইলট ও সেনাদের জীবন বাজি রেখে অর্জিত সামরিক সাফল্যকে নেতানিয়াহু এই চুক্তির মাধ্যমে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করছেন। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই নীরবতা ও নতজানু কূটনীতি দেশের সার্বভৌমত্ব ও সামরিক মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বেন-গভির ও বিরোধী নেতাদের এই অবস্থান প্রমাণ করে যে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার ভেতরেই বড় ধরনের মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের ইরান নীতি এবং ইসরায়েলের কঠোর সামরিক লক্ষ্য—এই দুই বিপরীতমুখী মেথডলজি এখন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের কন্ডিশন তৈরি করছে। চুক্তির শর্তাবলী এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনা করে ইসরায়েল শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোবে, সেটাই এখন আন্তর্জাতিক মহলের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
জান্নাত সকালবেলা
|