লন্ডনে ফিলিস্তিনি জমি বিক্রি প্রদর্শনীর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ

প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:৩৭ অপরাহ্ণ
লন্ডনে ফিলিস্তিনি জমি বিক্রি প্রদর্শনীর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করে গড়ে তোলা অবৈধ ইসরায়েলি বসতি ও ভূসম্পত্তি বিক্রির একটি প্রদর্শনীর বিরুদ্ধে লন্ডনে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন শত শত ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে লন্ডনের সড়কগুলোতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অন্তত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

বিক্ষোভকারীরা লন্ডনে আয়োজিত ওই সম্পত্তি বিক্রির মেলা বা প্রদর্শনীকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার একটি জঘন্য প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লন্ডনের ওই প্রদর্শনী কেন্দ্রের বাইরে শত শত ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারী ব্যানার ও প্লাকার্ড হাতে অবস্থান নেন। তাঁরা ফিলিস্তিনি জমি কেনাবেচা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবিতে তীব্র স্লোগান দিতে থাকেন। ঠিক একই সময়ে সেখানে কিছু ইসরায়েলপন্থী বিক্ষোভকারীও জড়ো হলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়।

লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করা এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর মতো বিভিন্ন অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের মাটিতে ফিলিস্তিনিদের জমি বিক্রির এমন প্রকাশ্য আয়োজনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সে দেশের মানবাধিকার কর্মী ও মূলধারার রাজনীতিবিদরা। ইতিমধ্যে প্রায় ১০০ জন ব্রিটিশ সংসদ সদস্য (এমপি) সরকারের কাছে লিখিত দাবি জানিয়েছেন, যেন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী এই ধরনের যেকোনো বাণিজ্যিক তৎপরতা যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়।

ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি লায়লা মোরান এই ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ব্রিটিশ ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে ফিলিস্তিনিদের পৈতৃক জমি ও ঘরবাড়ি বিক্রির মতো কোনো অবৈধ লেনদেনের অনুমতি দেওয়া কখনোই উচিত নয়।”

বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর (ফরেন অফিস) এক বিবৃতিতে তাঁদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য সরকার অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গড়ে তোলা যেকোনো অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সম্পত্তি প্রচার ও বিক্রির তীব্র বিরোধিতা করে। একই সঙ্গে ব্রিটিশ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই ধরনের কার্যকলাপে জড়িত হওয়ার আইনি পরিণতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তাঁদের সুনামের ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

সূত্র: ডেইলি জং। 

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন