কয়েক দিনের মধ্যে ইরানে পারমাণবিক হামলা চালাবে আমেরিকা : টাকার কার্লসন

প্রকাশ: সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:১৫ অপরাহ্ণ
কয়েক দিনের মধ্যে ইরানে পারমাণবিক হামলা চালাবে আমেরিকা : টাকার কার্লসন

 ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তীব্র ও ধারাবাহিক চাপের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের শক্তিশালী ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় পারমাণবিক হামলার চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে পারেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী রাজনৈতিক বিশ্লেষক টাকার কার্লসন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (টুইটার) প্রকাশিত এক দীর্ঘ ও নজিরবিহীন পোস্টে কার্লসন এই বিষ্ফোরক দাবি তুলে ধরেছেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন কিংবা তেল আবিব সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা দাপ্তরিক সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।

 কার্লসনের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন ও ইসরায়েলি সম্ভাব্য এই সামরিক অভিযানের প্রধান লক্ষ্যবস্তু মধ্য-ইরানের পাহাড়ি এলাকা 'পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন' (Pickax Mountain)। ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ইরান পুনরায় সেখানে তাদের উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালু করেছে। যেহেতু পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত এই মজবুত স্থাপনাটি প্রথাগত কোনো সামরিক অস্ত্র দিয়ে ধ্বংস করা সম্ভব নয়, তাই একমাত্র বিকল্প হিসেবে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র (Tactical Nuclear Weapon) ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

কার্লসন অভিযোগ করে আরও বলেন, “নেতানিয়াহু এই আক্রমণের সিদ্ধান্ত ত্বরান্বিত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর ক্রমাগত মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছেন। সূত্রের খবর, তিনি প্রায় প্রতিদিনই ট্রাম্পকে ফোন দিচ্ছেন।” কার্লসনের মতে, সম্প্রতি শেষ হওয়া ইসরায়েলি নির্বাচনের ফলাফলের পর অভ্যন্তরীণ তীব্র রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন নেতানিয়াহু। নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ও নতুন সরকার গঠন নিশ্চিত করতেই তিনি এই বিপজ্জনক যুদ্ধ পরিস্থিতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।

 ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপদস্থ সামরিক ও প্রশাসনিক কর্তাদের মধ্যে এই ইস্যুতে চরম মতভেদ দেখা দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন কার্লসন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ সরাসরি সামরিক অভিযানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ কৌশলগত কূটনীতির পক্ষে সওয়াল করছেন এবং সরাসরি সমঝোতা চুক্তির তাগিদ দিচ্ছেন।

ইরানের মাটিতে এ জাতীয় পারমাণবিক আঘাতের ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সতর্ক করে টাকার কার্লসন বলেন, পারস্য উপসাগরীয় এলাকার ভূগর্ভস্থ বিস্ফোরণে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে বিশাল অঞ্চলের সুপেয় পানি পুরোপুরি দূষিত হবে, যা প্রায় ১০ কোটি মানুষের জীবনকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলবে। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে বিশ্বযুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

উল্লেখ্য, টাকার কার্লসনের এই চাঞ্চল্যকর দাবি এমন এক মুহূর্তে সামনে এলো, যখন কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ শান্তি আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরু থেকেই কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও, দর কষাকষি ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প পথও খোলা রেখেছেন।