এমপি নুরুলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে জেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশ: সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৯ অপরাহ্ণ
এমপি নুরুলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে জেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জ-কাছিরগাতি-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হাতেনাতে ধরে ফেলায় সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদা দাবির অভিযোগ এবং অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জেলা বিএনপি। একইসঙ্গে সড়কটির কাজে জালিয়াতির বিচার এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে ৫ দফা দাবি জানানো হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল হক, সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুক আলম, নাদির আহমদ, আকবর আলী, অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী, মালেক খান, রেজাউল হক এবং আ ত ম মিসবাহসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

লিখিত বক্তব্যে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন জানান, সুনামগঞ্জ-কাছিরগাতি-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের মূল কার্যাদেশ পেয়েছিল ঢাকার আওয়ামী লীগ সমর্থিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ইসলাম ট্রেডার্স’ (মালিক মো. বদরুল ইসলাম)। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মূল ঠিকাদার আত্মগোপনে চলে গেলে প্রথম সাব-ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব নেন নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির সদস্য আজাদ হোসেন। পরবর্তীতে তাদের অন্তদ্বন্দ্বে দ্বিতীয় সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজ নেন বিভিন্ন সন্ত্রাসী মামলার আসামি ডেভিল শফিকুল ইসলাম।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, গত ২৭ অক্টোবর সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল বিশ্বম্ভরপুরের রতারগাঁও হাইস্কুলের একটি অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে স্থানীয় জনতা তাকে সড়কটির বেহাল দশা ও ব্যাপক অনিয়মের কথা জানান। তাৎক্ষণিকভাবে এমপি সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পান—সদ্য নির্মিত গার্ড ওয়াল একদিকে হেলে পড়েছে, ভিট বালুর পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে কৃষিজমির টপ সয়েল (উপরিভাগের মাটি) এবং জিও টেক্সটাইলের ওপর নিম্নমানের ব্লক বসানো হয়েছে।

এমপি নুরুল ইসলাম পরদিন সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সাইট পরিদর্শনের ঘোষণা দেওয়ার পরই দুর্নীতিবাজ সাব-ঠিকাদাররা নিজেদের অপরাধ ঢাকতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট এমপির বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কাল্পনিক চাঁদা দাবির লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। জেলা বিএনপি এই ন্যক্কারজনক ‘তথ্য সন্ত্রাসের’ কঠোর প্রতিবাদ জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে বলা হয়, ৪০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে কীভাবে ৮৭ কোটি টাকা ব্যয় দেখিয়ে ওভার এস্টিমেট (অতিরিক্ত প্রাক্কলন) করা হয়েছে, তা প্রথম সাব-ঠিকাদারের মুখ থেকেই প্রকাশ পেয়েছে। প্রকল্পে মাত্র ৭ লাখ ঘনফুট মাটি কাটার জায়গায় কাগজে-কলমে ৫৬ লাখ ঘনফুট মাটি দেখানো হয়েছে। কোনো ধরনের সাইনবোর্ড ছাড়াই কাজ চালিয়ে ইতোমধ্যে প্রায় ৩৮ কোটি টাকার বিল ভুয়া কাগজপত্রে উত্তোলন করে সড়ক বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের প্রতিনিধিরা ভাগাভাগি করে আত্মসাৎ করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত ৫ দফা দাবি: ১. প্রকল্প শুরুর প্রারম্ভ থেকেই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত প্রতিটি ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। ২. সরকারি প্রকল্পের প্রকৃত মূল্য পুনর্বমূল্যায়ন করে অতিরিক্ত দেখানো (ওভার ভ্যালু) অর্থ দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারের কাছ থেকে আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। ৩. এ পর্যন্ত সম্পাদিত নিম্নমানের সমস্ত কাজ বাতিল ঘোষণা করে নকশা অনুযায়ী মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী দিয়ে পুনরায় কাজ করতে হবে। ৪. দায়িত্বে অবহেলা ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। ৫. দুর্নীতিবাজ এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলসহ তাদের অধীনে চলমান অন্যান্য সব প্রকল্পের কার্যক্রম স্থগিত করতে হবে।

এআইএল/সকালবেলা