সাইবার বুলিংয়ের শিকার ৩১% কিশোরী মারাত্মক বিষণ্নতায় ভুগছে
অনলাইন ডেস্ক: সাইবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা রূপের বুলিং বা হয়রানির শিকার হওয়া প্রতি ১০০ জন বাংলাদেশি কিশোরীর ৩১ জনের শরীর ও মনে গুরুতর বিষণ্নতা বা ‘মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার’ (এমডিডি)-এর লক্ষণ ধরা পড়েছে।
আইসিডিডিআর,বি-র মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) পরিসংখ্যান বিভাগের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘বাংলাদেশি কিশোরীদের মধ্যে সাইবার বুলিংয়ের সঙ্গে মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডারের সম্পর্ক’ শীর্ষক এক গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। গবেষণাটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন 'স্প্রিংগার নেচার লিংক'-এ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়।
বাংলাদেশ কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা জরিপ ২০১৯-২০-এর আওতায় মোট ৪ হাজার ৯৮৪ জন কিশোরীর ওপর এ গবেষণা চালানো হয়। ফলাফলে দেখা গেছে, সার্বিকভাবে ১২ শতাংশ কিশোরীর মধ্যে মারাত্মক বিষণ্নতার উপস্থিতি রয়েছে। তবে যারা বিগত ১২ মাসে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছে, তাদের মধ্যে এই বিষণ্নতার প্রাদুর্ভাব বা হার প্রায় ৩১ শতাংশ, যা সাধারণ কিশোরীদের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি।
গবেষণায় ভৌগোলিক অঞ্চলভিত্তিক সাইবার বুলিংয়ের হারেও বড় ধরনের ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে। দেশের বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ কিশোরী বরিশালে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছে। এরপর রংপুরে ১১ শতাংশ, ময়মনসিংহে ১০ শতাংশ, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীতে ৮ শতাংশ এবং ঢাকায় ৬ শতাংশ কিশোরী এ ধরনের হয়রানির সম্মুখীন হয়েছে। সবচেয়ে কম ৪ শতাংশ হার রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটে।
অবিবাহিত ও বিবাহিত উভয় শ্রেণির কিশোরীদের ক্ষেত্রেই সাইবার বুলিংয়ের মূল উৎস হিসেবে উঠে এসেছে অপরিচিত ব্যক্তিদের নাম। তবে অবিবাহিত কিশোরীদের ক্ষেত্রে বন্ধু কিংবা সহপাঠীদের হাতে অনলাইন হয়রানির নজিরও ব্যাপক। অপরদিকে, বিবাহিত বা অতীতে বিবাহিত কিশোরীদের ৬.৬ শতাংশ জানিয়েছে, তারা স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির ঘনিষ্ঠ সদস্যদের মাধ্যমেই অনলাইনে কটূক্তি ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছে।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের বিশিষ্ট মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, অনলাইনে হয়রানির শিকার হলে বিষয়টি গোপন না করে ভুক্তভোগীকে অতি দ্রুত সাহায্য নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সমাজ থেকে ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করা বা ‘ভিকটিম ব্লেমিং’-এর প্রবণতা বন্ধের ওপর জোর দিয়ে তিনি প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাইবার ইউনিটের আইনি সহায়তার পরামর্শ দেন। তিনি আরও জানান, দেশে মানসিক ব্যাধিতে ভোগা প্রায় ৯২ শতাংশ মানুষ উপযুক্ত চিকিৎসাসেবার আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
গবেষকেরা সাইবার বুলিং রুখতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, সাইবার অপরাধের জন্য সহজ ও নিরাপদ অভিযোগ ব্যবস্থা চালু করা এবং দ্রুত ও সুলভে মানসিক সেবা বা কাউন্সেলিং পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন। একই সাথে অভিভাবকদের সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিরাপদ ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।