নারীর ক্ষমতায়নে জেন্ডার বাজেটের কার্যকর বণ্টনের দাবি

প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৭:৩০ অপরাহ্ণ
নারীর ক্ষমতায়নে জেন্ডার বাজেটের কার্যকর বণ্টনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নারীর ক্ষমতায়নে বরাদ্দকৃত জেন্ডার বাজেটের কার্যকর বণ্টন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নারী নেতৃবৃন্দ। তাঁরা বলেছেন, নারীর ক্ষমতায়নের জন্য নেওয়া কৌশলগুলো কতটুকু জেন্ডার চাহিদা পূরণ করছে ও অগ্রগতি কতটুকু, সে বিষয়ক সংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের পাশাপাশি গুণগত বিশ্লেষণের পরিমাপক নির্ধারণ করতে হবে।

একই সঙ্গে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের জেন্ডার বাজেট বিষয়ে ধারণাগত স্পষ্টতা এবং পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। আজ সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর আজিমুর রহমান হলে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে নারী নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।

বিএনপিএস-এর কার্যনির্বাহী পরিষদের সহ-সভানেত্রী ডা. মাখদুমা নার্গিস রত্নার সভাপতিত্বে বৈঠকটি পরিচালনা করেন সংগঠনটির পরিচালক শাহনাজ সুমী। বৈঠকে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শরমিন্দ নীলোর্মি।

মূল বক্তব্যে অধ্যাপক ড. শরমিন্দ নীলোর্মি বলেন, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে মোট বাজেটের ৩৪ শতাংশ জেন্ডার বিষয়ক বাজেট হিসেবে প্রণয়ন করা হয়েছে, যা মোট জিডিপির ৪ শতাংশ। নারীদের মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করা ও প্রায় ৪ কোটি সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র নারীকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের মতো কর্মসূচি প্রশংসনীয়। তবে নারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু খাতে বরাদ্দ আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।

তিনি জানান, নারীর নিরাপদ কর্মপরিবেশ খাতে বরাদ্দ ১২ শতাংশ, সাইবার নিরাপত্তা খাতে ৭ শতাংশ, চলাচল ও নিরাপত্তা খাতে ৩০ শতাংশ, স্বাস্থ্য ও কল্যাণ খাতে ২২ শতাংশ এবং সরকারি সেবা গ্রহণসংক্রান্ত খাতে ৩৪ শতাংশ কমেছে। এছাড়া নারীদের তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক প্রশিক্ষণে কোনো প্রকার বরাদ্দ রাখা হয়নি। একই সঙ্গে শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেটও কমানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সভাপ্রধানের বক্তব্যে ডা. মাখদুমা নার্গিস রত্না বলেন, বাজেটে নারীর জন্য বরাদ্দ নারী উন্নয়ন নীতির কর্মকৌশল অনুযায়ী হচ্ছে কি না তার কোনো খতিয়ান নেই। তাই বরাদ্দকৃত জেন্ডার বাজেটের কার্যক্রমগুলো কীভাবে সরাসরি নারীর ক্ষমতায়ন ও জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালার কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত, তার অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রতি বছর তৈরি ও জনসমক্ষে পেশ করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক তানিয়া হক পরিবারকেন্দ্রিক বাজেট প্রণয়নের ওপর জোর দিয়ে বলেন, সেটি না হলে সাধারণ মানুষ বাজেটের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। নীতি-নির্ধারকদের, বিশেষ করে সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও বাজেট বাস্তবায়নকালীন সময়ে অগ্রগতি বিবেচনায় নিয়মিত পর্যালোচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. মালেকা বানু বাজেটের অংশীজন প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে বলেন, ‘নারীর জন্য বাজেট অথচ নারীদের সঙ্গে কোনো প্রকার আলাপ-আলোচনা করা হয়নি। ফলে এটি কতটা নারীবান্ধব হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নারী নিরাপত্তা ও সুরক্ষার প্রশ্নে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) উপজেলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ, সরকারি আইনগত সহায়তা এবং নির্যাতনের শিকার নারীর জন্য শেল্টার হোমের সংখ্যা বাড়ানোর মতো অত্যাবশ্যক বিষয়গুলো বাজেটে গুরুত্ব পায়নি।’

গোলটেবিল বৈঠকে প্রাগ্রসরের নির্বাহী পরিচালক ফৌজিয়া খন্দকার বলেন, ‘নারীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন, জেন্ডার বৈষম্য দূরীকরণ, নারী ও বহুমাত্রিক লিঙ্গ পরিচয়ের নাগরিক এবং প্রান্তিক নারীর জন্য কর্ম, নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নারীর ক্ষমতায়নকে জোরদার করার ক্ষেত্রে বাজেটে উল্লেখযোগ্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি।’

আলোচনায় অন্যদের মধ্যে আরও অংশ নেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট প্রীতিলতা হক, জেন্ডার বাজেট ও প্ল্যানিং বিশেষজ্ঞ নিলুফার করিম, বিলস-এর পরিচালক নাজমা ইয়াসমীন, নেটজ বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার আফসানা বিনতে আমীন, সাংবাদিক নাদিরা কিরণ, শ্রমিকনেত্রী সাহিদা পারভীন শিখা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের শারমীন আক্তার, এডাবের সমাপিকা হালদার এবং জেন্ডার বিশেষজ্ঞ নাজনীন পাপ্পু।

মন্তব্য করুন