রমজানের পর যে রোজার ফজিলত সবচেয়ে বেশি
মদিনায় হিজরতের পর মহানবী (সা.) দেখতে পান ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা রাখছে। কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, এই দিনে আল্লাহ তায়ালা হজরত মুসা (আ.) ও তার কওমকে ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। শুকরিয়া আদায়স্বরূপ মুসা (আ.) এই দিনে রোজা রাখতেন। রাসুল (সা.) তখন বলেছিলেন, “মুসা (আ.)-এর অনুসরণের ক্ষেত্রে আমরা তোমাদের চেয়ে অধিক হকদার।” এরপর তিনি নিজেও রোজা রাখেন এবং অন্যদের রোজা রাখতে উৎসাহিত করেন। (সহিহ মুসলিম: ১১৩০)
হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (সা.) ইরশাদ করেন, “রমজানের পর সব থেকে উত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা।” (সহিহ মুসলিম: ১১৬৩)
আশুরার রোজার বিশেষ ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, “আশুরার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর নিকট প্রত্যাশা রাখি, তিনি পূর্বের এক বছরের (সগীরা) গুনাহ মাফ করে দেবেন।” (সহিহ মুসলিম: ১১৬২)
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনামতে, রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজানের পর অন্য কোনো দিনের রোজার প্রতি এত বেশি গুরুত্ব দিতেন না, যতটা আশুরার রোজার প্রতি দিতেন। ইসলামপূর্ব জাহেলি যুগেও আরবে আশুরার রোজা পালন করা হতো। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পূর্বে আশুরার রোজা মুসলমানদের ওপর ফরজ ছিল, যা বর্তমানে মুস্তাহাব বা নফল ইবাদত হিসেবে বিবেচিত হয়।
পরিশেষে, মহররম মাস আল্লাহর মাস হিসেবে সম্মানিত ও মহিমান্বিত। তাই এই মাসের ফজিলত ও আশুরার রোজার গুরুত্ব বুঝে এর ইবাদতে যত্নবান হওয়া প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য।
জান্নাত সকালবেলা
|