জুমার দিনের কোন সময়ে দুআ অবশ্যই কবুল হয়?
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলাম ধর্মে দুআ হলো ইবাদতের রূহ ও প্রাণ। আল্লাহর সামনে বান্দার হীনতা, দীনতা ও আল্লাহমুখিতার এক অপূর্ব বহিঃপ্রকাশ হলো দুআ। হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “দুআই ইবাদত।” (তিরমিজি)। এছাড়া যারা আল্লাহর কাছে চায় না, আল্লাহ তাদের ওপর অসন্তুষ্ট হন বলেও হাদিসে কঠোর হুঁশিয়ারি রয়েছে।
সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন জুমার দিনে আল্লাহ তাআলা বান্দার দুআ কবুল করার সুনির্দিষ্ট একটি ওয়াদা রেখেছেন। হাদিস শরিফে জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্তের কথা বলা হয়েছে, যে সময়টিতে কোনো মুসলিম বান্দা আল্লাহর কাছে যা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে তা-ই দান করেন। সাহাবি, তাবেইন ও পরবর্তী উলামায়ে কেরামের গবেষণা এবং বিভিন্ন হাদিসের আলোকে এই বিশেষ সময়টি নিয়ে দুটি মতকে সবচেয়ে বেশি অগ্রগণ্য বা শক্তিশালী বলে গণ্য করা হয়েছে।
১. খুতবা থেকে সালাত সমাপ্ত হওয়া পর্যন্ত সময়: আবু মূসা আশআরি (রা.) ও আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর বর্ণনার আলোকে আলেমগণ জানান, জুমার দিন খতিব যখন মিম্বরে বসেন (বা খুতবার জন্য বসা শুরু করেন) ঠিক সেই সময় থেকে নিয়ে জুমার ফরজ জামাত শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়টি অত্যন্ত বরকতময়। এই সময়ে খুতবা শোনা ও সালাত আদায়ের পাশাপাশি অন্তরে দুআ করলে আল্লাহ তা কবুল করেন।
২. আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত (দিনের শেষ ভাগ): হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.), আবু হুরায়রা (রা.) ও জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) সহ একাধিক সাহাবির বর্ণনা অনুযায়ী, জুমার দিনের দ্বিতীয় ও সবচেয়ে শক্তিশালী সময়টি হলো আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্ত বা মাগরিবের আগ পর্যন্ত সময়টি। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই সময়টিকে অনুসন্ধান করতে বলেছেন।
সালাফে সালেহীনের আমল: পূর্বসূরি বুযুর্গ ও সালাফে সালেহীন এই মহামূল্যবান সময়টির কদর করতে অত্যন্ত ব্যাকুল থাকতেন। হজরত সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রা.) ও তাউস (রহ.)-এর মতো মহান তাবেইনরা জুমার দিন আসরের সালাত আদায়ের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কাউকেও কোনো কথা বলতেন না এবং সম্পূর্ণ সময়টি শুধু কান্নাকাটি, দুআ ও জিকিরে কাটিয়ে দিতেন। শায়খুল হাদিস মাওলানা জাকারিয়া কান্ধলবী (রহ.)-এর মতো বুযুর্গদেরও এই বিশেষ মামুল বা আমল ছিল।
অতএব, প্রত্যেক মুসলিমের উচিত জুমার দিনের এই দুটি বরকতময় সময়ে (খুতবা-সালাতের মধ্যবর্তী সময় এবং আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত) দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় কল্যাণ কামনা করে গুরুত্বের সাথে দুআর ইহতেমাম করা।