আদম আ. পৃথিবীতে আসার পর কী করেছিলেন

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:২৫ অপরাহ্ণ
আদম আ. পৃথিবীতে আসার পর কী করেছিলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক:মানবজাতির আদি পিতা হজরত আদম আলাইহিস সালামের জান্নাত থেকে এই দুনিয়ায় আগমন এবং তার পরবর্তী জীবনপ্রবাহ নিয়ে যুগে যুগে মানুষের মাঝে জানার আগ্রহ অপরিসীম। আধুনিক নৃবিজ্ঞানীরা মানুষের সৃষ্টি ও আদি ইতিহাস নিয়ে নানাবিধ ধারণানির্ভর তথ্য দিলেও, মুসলিম উম্মাহর কাছে পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর বর্ণনাই একমাত্র বাস্তব ও ঐতিহাসিক সত্য। বিখ্যাত মুফাসসির ও ঐতিহাসিক ইমাম ইবনে কাছিরের সংকলিত আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থের তথ্য এবং বুখারী শরীফের বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য বর্ণনা অনুযায়ী, সৃষ্টির শুরুতে হজরত আদম থেকে শুরু করে হজরত নূহ আলাইহিস সালাম পর্যন্ত ১০টি প্রজন্ম অতিবাহিত হয়েছিল এবং তারা সবাই একত্ববাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। পৃথিবীর বুকে প্রথম মুসলমান এবং প্রথম নবী হজরত আদম দুনিয়ায় আসার পর কীভাবে জীবন অতিবাহিত করেছিলেন, তার একটি নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক রূপরেখা পাওয়া যায়।

আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘দ্বীন ও জীবন, ইসলামের ইতিহাস ও নবীদের জীবনী খতিয়ান’ এবং ‘কোরআন-সুন্নাহর আলো, তাফসীর ও সমসাময়িক ইসলামী চিন্তা ট্র্যাকিং উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে আদি পিতা হজরত আদম আ.-এর দুনিয়াবী জীবনের বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরা হলো।

বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য ইতিহাস ও বর্ণনা অনুযায়ী, জান্নাত থেকে পৃথিবীতে প্রেরণের পর হজরত আদম আলাইহিস সালাম তৎকালীন সিংহল বা বর্তমান শ্রীলঙ্কার একটি সুউচ্চ পাহাড়ে প্রথম অবতরণ করেছিলেন। প্রাচীনকালে এই দ্বীপটিকে সারান্দীপ বা রত্নদ্বীপ বলা হতো। যুগের পর যুগ ধরে মানুষ ওই পাহাড়টিকে আদমস পিক বা আদমের পাহাড় নামে ডেকে আসছে এবং পাহাড়ের চূড়ার একটি পাথরে তাঁর স্পষ্ট পায়ের ছাপ রয়েছে বলে জনশ্রুতি আছে।

শ্রীলঙ্কায় অবতরণের পর হজরত আদম সেখান থেকে পবিত্র মক্কা নগরীতে গমন করেন। আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থের তথ্য অনুযায়ী, যখন আদি পিতার দুই সন্তান হাবিল ও কাবিলের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং কাবিল তার ভাইকে হত্যা করে, ঠিক সেই সময়ে হজরত আদম পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় অবস্থান করছিলেন। মুসনাদে আহমদে বর্ণিত একটি হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে ঐতিহাসিকেরা মনে করেন, হজরত আদমের শারীরিক উচ্চতা ছিল প্রায় ৫০ ফুট এবং চওড়া ছিল ৯ ফুট। বিশালাকৃতির এই গঠনের কারণে তাঁর পক্ষে শ্রীলঙ্কা থেকে হেঁটে মক্কায় যাতায়াত করা কঠিন কিছু ছিল না এবং যাওয়ার পথে তিনি যেখানেই যাত্রাবিরতি করেছিলেন, পরবর্তীতে সেসব স্থানেই এক একটি ঐতিহাসিক জনপদ বা শহরের সৃষ্টি হয়েছিল।

বিখ্যাত তাবেয়ী কাতাদাহর মতে, হজরত আদম (আ.) দুনিয়ায় আসার সময়ই মহান আল্লাহর নির্দেশে পবিত্র কাবা শরীফ পৃথিবীতে অবতীর্ণ বা কাবার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। মহান আল্লাহ হজরত আদমকে জানিয়েছিলেন যে, আসমানে যেভাবে ফেরেশতারা আল্লাহর আরশ তাওয়াফ করেন, ঠিক তেমনি দুনিয়াতেও কাবার চারপাশ তাওয়াফ করা হবে। মুফাসসির ইবনে জারীর উল্লেখ করেছেন, আল্লাহ তায়ালা হজরত আদমকে কাবার চারপাশ তাওয়াফ করার নির্দেশ দেওয়ার পর একজন ফেরেশতা পাঠিয়ে তাকে হজের সমস্ত নিয়মকানুন শিখিয়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে হজরত নূহের প্লাবনের সময় আল্লাহ তায়ালা কাবা ঘরকে ওপরে তুলে নেন এবং বহু বছর পর হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম আল্লাহর নির্দেশে সেই আদি ভিত্তির ওপর পুনরায় কাবার দেয়াল নির্মাণ করেন।

ইমাম ইবনে কাছিরের বর্ণনা অনুযায়ী, জীবনের শেষভাগে হজরত আদম আলাইহিস সালাম আরব ভূখণ্ড থেকে পুনরায় শ্রীলঙ্কার সেই পাহাড়ে ফিরে যান, যেখানে তিনি প্রথমবার নেমেছিলেন। সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে সমাহিত করা হয়। হজরত আদম পৃথিবীতে প্রায় এক হাজার বছর জীবিত ছিলেন। পবিত্র কোরআনের সূরা নিসার ১ নম্বর আয়াতের বর্ণনা অনুযায়ী, এই দীর্ঘ সময়ে তাঁর ও বিবি হাওয়ার সন্তানদের মাধ্যমেই শ্রীলঙ্কা, আরব এবং ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মানব বংশধররা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং সমগ্র পৃথিবীতে প্রথম মানব বসতি গড়ে উঠেছিল।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন