ধর্ম খারাপ কাজকে সমর্থন করে না: গয়েশ্বর
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও সরকারি কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও নানাবিধ বিধি-নিষেধের বাইরে ছিল না। যার ফলে অনেক ক্ষেত্রেই এসব পবিত্র প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও ধর্মীয় স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল।
আজ সোমবার (২২ জুন) সকালে কেরানীগঞ্জ উপজেলা হলরুমে নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের উন্নয়নে 'মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম'-এর সনদ এবং অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. উমর ফারুক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সব ধর্মেই ভালো ও মন্দ কাজের সুনির্দিষ্ট প্রতিফল সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। মানুষ সবসময় তার কর্ম অনুযায়ী ভালো বা মন্দ ফল ভোগ করে থাকে। তাই ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং সমাজের সাথে সাংঘর্ষিক কোনো আইন কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’
বিগত সরকারের আমলের দমনপীড়নের স্মৃতি চারণ করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমাকে সাধারণ মানুষদের নিয়ে ইফতার পার্টির মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠান পর্যন্ত আয়োজন করতে দেওয়া হয়নি। তখন আমি নিরুপায় হয়ে গাড়িতে করে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করতাম। ইসলাম ধর্ম যেমন নিরাকার আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস স্থাপন করে, তেমনি আমি একজন হিন্দু ধর্মের মানুষ হিসেবে সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তায় মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি। ধর্ম ও সৎ কর্ম মূলত একে অপরের পরিপূরক।’
আইনশৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধা রাখার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেককে রাষ্ট্রের এবং দেশের প্রচলিত আইন মেনে সুনাগরিক হিসেবে চলতে হবে। সমাজে কোনো ধরনের উগ্রবাদ বা মৌলবাদ প্রতিষ্ঠার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। শান্তি ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়েই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন— কেরানীগঞ্জ উপজেলা দক্ষিণ শাখা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবু, কেরানীগঞ্জ উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইনচার্জ মো. আল-আমীন, বিএনপি নেতা আলী হোসেন আলী, চঞ্চল এবং যুবদল নেতা আরমান উল্লাহ ডাবলু প্রমুখ।
এআইএল/সকালবেলা
|