কবরস্থানে পবিত্র ও শান্ত পরিবেশে মৃত ব্যক্তির মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ধর্ম ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত শেষে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সাথে নিয়ে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পরে তিনি বনানী কবরস্থানে ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো ও শ্বশুর মাহবুব আলী খানের কবরও জিয়ারত করেন। ঈদের আনন্দের দিনে আমাদের চারপাশ থেকে বিদায় নেওয়া প্রিয়জন, বিশেষ করে মা-বাবার স্মৃতি মনে পড়া এবং তাঁদের কবর জিয়ারত করার এই আমলটির গুরুত্ব ইসলামে অপরিসীম।
ইসলামি শরিয়তে কবর জিয়ারতের মূল উদ্দেশ্য হলো—কবরের পাশে গিয়ে মৃত ব্যক্তির মাগফিরাত বা মুক্তির জন্য দোয়া করা এবং একই সাথে নিজের মৃত্যুর কথা স্মরণ করে আখেরাতের পাথেয় গোছানো।
কবর জিয়ারতের জন্য ইসলামে সুনির্দিষ্ট কোনো দিন বা সময়ের বাধ্যবাধকতা নেই। বছরের যেকোনো দিন, যেকোনো সময় কবর জিয়ারত করা যায়। তবে জুমার দিন বা ঈদের মতো বিশেষ দিনগুলোতে জিয়ারত করলে জিয়ারতকারীর নিজের জন্যও তা ক্ষমালাভের কারণ হয়।
মা-বাবার কবর জিয়ারতের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি প্রতি জুমায় (বা বিশেষ দিনে) তার মা-বাবা বা তাদের একজনের কবর জিয়ারত করবে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে এবং মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহারকারীদের মধ্যে গণ্য করা হবে।’
প্রিয়জন বা মা-বাবার কবরের পাশে গেলে মন বিষণ্ন হওয়া বা চোখ অশ্রুসিক্ত হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক ও মানবিক বিষয়। তবে কবরের কাছে গিয়ে উচ্চশব্দে হা-হুতাশ বা বিলাপ করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর আম্মার কবর জিয়ারত করতে গিয়ে ক্রন্দন করেন এবং তাঁর সঙ্গীসাথীরাও অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন:
‘আমি আমার রবের কাছে আমার মায়ের কবর জিয়ারত করার অনুমতি চাইলে তিনি এর অনুমতি দিয়েছেন। কাজেই তোমরা কবর জিয়ারত করবে। কেননা, তা মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়।’ (সুনানে আবু দাউদ)
কবরস্থানে সবসময় পবিত্র অবস্থায় প্রবেশ করা উত্তম। জিয়ারতের ধারাবাহিক নিয়মগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. কবরবাসীকে সালাম ও প্রথম দোয়া: কবরস্থানে প্রবেশ করে প্রথমেই কবরবাসীদের দিকে মুখ করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো এই দোয়াটি পড়তে হবে:
উচ্চারণ: ‘আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর; ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়ালাকুম, আনতুম সালাফুনা ওয়া নাহনু বিল আছার।’ (সুনানে তিরমিজি) অর্থ: হে কবরবাসী! তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ আমাদের ও তোমাদের ক্ষমা করুন, আমাদের আগে তোমরা কবরে গেছ এবং আমরা পরে আসছি।
অথবা সহিহ মুসলিমের এই দোয়াটিও পড়া যায়:
উচ্চারণ: ‘আসসালামু আলাইকুম দারা ক্বাওমিম মুমিনিনা ওয়া ইন্না ইনশাআল্লাহু বিকুম লাহিকুন।’ অর্থ: মুমিন ঘরবাসীর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। ইনশা আল্লাহ, আমরা আপনাদের সঙ্গে মিলিত হব।
২. পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত: সালাম দেওয়ার পর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দরুদ শরিফ, সুরা ফাতিহা, সুরা ইখলাস এবং আয়াতুল কুরসি (কিংবা কোরআনের অন্য যেকোনো মুখস্থ সুরা) তিলাওয়াত করা উত্তম।
৩. রুহের মাগফিরাত ও নিজের জন্য মোনাজাত: সর্বশেষ, দুই হাত তুলে মহান আল্লাহর দরবারে অত্যন্ত আকুলতার সাথে মৃত ব্যক্তির গুনাহ খাতা মাফ ও জান্নাত নসিবের জন্য প্রার্থনা করতে হবে। কবরবাসীর পাশাপাশি জিয়ারতকারী নিজের ক্ষমার জন্যও আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করবেন, কারণ এটি দোয়া কবুলের অন্যতম উপযুক্ত সময়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই আমলটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জীবনের যেকোনো বড় সাফল্যে বা আনন্দের দিনে আমাদের উচিত সবার আগে জন্মদাতা মা-বাবা ও প্রয়াত স্বজনদের স্মরণ করা এবং তাঁদের আত্মার শান্তির জন্য মহান আল্লাহর দরবারে হাত তোলা।
ইসলামী ডেস্ক/সকালবেলা