ইবরাহিম (আ.)-এর কৌশল অবলম্বন
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘সে বলল, বরং তাদের এই বড় মূর্তিটিই একাজ করেছে। তাই এদেরই জিজ্ঞাসা কর, যদি এরা কথা বলতে পারে।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৬৩)। এই আয়াতের মাধ্যমে ইবরাহিম (আ.)-এর এক অনন্য প্রজ্ঞাপূর্ণ কৌশলের পরিচয় পাওয়া যায়।
ইবরাহিম (আ.) যখন তাঁর সম্প্রদায়কে সত্যের পথে আহ্বান জানানোর লক্ষ্যে সব ছোট মূর্তি ভেঙে বড় মূর্তিটি অক্ষত রাখেন, তখন তারা তাকে জনসমক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করে। উত্তরে ইবরাহিম (আ.) বড় মূর্তির ওপর কাজের দায়ভার চাপিয়ে দেন। মূলত এটি ছিল একটি কঠোর বিদ্রূপ, যাতে তারা বুঝতে পারে যে কথা বলতে অক্ষম বস্তু কখনও উপাস্য হতে পারে না।
সহিহ বুখারির হাদিস অনুযায়ী, ইবরাহিম (আ.) জীবনে মাত্র তিনবার প্রকৃত সত্যের আড়ালে কৌশলী কথা বলেছিলেন। ১. মূর্তি ভাঙার দায়ে বড় মূর্তিকে অভিযুক্ত করা। ২. মেলার দিনে নিজেকে অসুস্থ (মানসিকভাবে চিন্তিত) বলা। ৩. জালিম বাদশাহর হাত থেকে রক্ষায় স্ত্রী সারাহ (আ.)-কে নিজের বোন (ইসলামী সম্পর্কের বোন) পরিচয় দেওয়া।
আলেমদের মতে, এগুলো সাধারণ মিথ্যা নয়, বরং অলংকার শাস্ত্রের ভাষায় একে ‘তাওরিয়া’ বলা হয়। অর্থাৎ শ্রোতা যা বুঝছেন, বক্তার উদ্দেশ্য ছিল তার ভিন্ন অর্থ। জুলুম ও শিরক থেকে বাঁচতে এ ধরনের কৌশল অবলম্বন করা ফিকাহবিদদের মতে বৈধ।
১. ইবরাহিম (আ.) একত্ববাদের ওপর অটল ছিলেন এবং সমাজের বিরোধিতা সত্ত্বেও শিরকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। ২. মূর্তি মানুষের কোনো উপকার বা অপকার করতে পারে না, তাই এগুলো ইবাদতের যোগ্য নয়। ৩. বাতিল শক্তিকে প্রতিহত করতে সরাসরি সংঘর্ষের চেয়ে প্রজ্ঞাপূর্ণ কৌশল অবলম্বন করা অধিক কার্যকর। ৪. সামাজিক চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে সত্যের পথে অবিচল থাকতে অদম্য সাহসের প্রয়োজন।
জান্নাত/সকালবেলা
|