মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কি কোরবানি করা যাবে

প্রকাশ: রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০৫:৪৬ অপরাহ্ণ
মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কি কোরবানি করা যাবে

ধর্ম ডেস্ক: ইসলামে কোরবানি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ আর্থিক ও শারীরিক ইবাদত। প্রতি বছর জিলহজ মাসে সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট নিয়মে পশু কোরবানি করে থাকেন। তবে অনেকের মনেই একটি সাধারণ প্রশ্ন থাকে মৃত পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন কিংবা প্রিয়জনের পক্ষ থেকে কোরবানি দেওয়া শরিয়তসম্মত কি না এবং এর গোশত খাওয়ার নিয়ম কী।

ইসলামি শরিয়তের নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা ও ফতোয়া অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির নামে বা তাঁর পক্ষ থেকে কোরবানি করা সম্পূর্ণ জায়েজ এবং এটি একটি অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। আলেমদের মতে, যেভাবে মৃত ব্যক্তির মাগফিরাত ও আত্মিক শান্তির জন্য দান-সদকা, দোয়া কিংবা বদলি হজের ব্যবস্থা করা যায়, ঠিক একইভাবে তাদের পক্ষ থেকে কোরবানিও করা যেতে পারে।

বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ শেখ ইবনে বাজ (রহ.) এবং সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটির মত অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানি দেওয়া বৈধ এবং ইসলামি ফিকহবিদরা এটিকে মৃত ব্যক্তির জন্য একটি উত্তম ‘সদকা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি বিখ্যাত হাদিসে বলা হয়েছে ‘মানুষ যখন মারা যায়, তখন তার তিনটি আমল ব্যতীত সব আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। আমল তিনটি হলো সদকায়ে জারিয়া, এমন ইলম যা দ্বারা মানুষের উপকার হয় এবং নেক সন্তান (যে তাঁর জন্য দোয়া করে)।’ (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৪০৭৭)। আলেমদের মতে, মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানি সেই নেক আমল ও সদকার অন্তর্ভুক্ত, যার সওয়াব আল্লাহ তায়ালা মৃত ব্যক্তির আমলনামায় পৌঁছে দেন।

মৃত ব্যক্তির নামে করা কোরবানির গোশত খাওয়ার ক্ষেত্রে শরিয়তের দুটি ভিন্ন ও গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে

মৃত ব্যক্তি যদি মৃত্যুর আগে কোরবানির জন্য কোনো ওসিয়ত করে না যান, তবে তাঁর ইছালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে ওয়ারিশ বা স্বজনেরা যে কোরবানি করবেন তা ‘নফল কোরবানি’ হিসেবে গণ্য হবে। এই কোরবানির গোশত সাধারণ কোরবানির মতোই নিজেরা বা পরিবারের সদস্যরা খেতে পারবেন এবং আত্মীয়-স্বজন ও গরিব-দুঃখীদের মাঝে বণ্টন করতে পারবেন। মৃত ব্যক্তি যদি কোরবানি করার ওসিয়ত করে যান এবং তাঁর রেখে যাওয়া নিজস্ব সম্পদ বা টাকা থেকে ওয়ারিশরা সেই ওসিয়ত পূরণার্থে কোরবানি আদায় করেন, তবে সেই কোরবানির গোশত নিজেদের খাওয়া বৈধ নয়। এই গোশত পুরোটাই গরিব, এতিম ও অসহায়দের মাঝে সদকা করে দিতে হবে। তবে, ওয়ারিশরা যদি মৃত ব্যক্তির ওসিয়ত পূরণের জন্য তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদ ব্যবহার না করে, বরং নিজেদের উপার্জিত অর্থ দিয়ে কোরবানি করেন, তাহলে সেই গোশত নিজেরাও খেতে পারবেন এবং অন্যদেরও খাওয়াতে পারবেন।

মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানির পশু সাধারণ নিয়মেই নির্ধারিত হালাল বা নির্দিষ্ট স্থানে জবেহ করতে হবে। অনেকে না বুঝে আবেগতাড়িত হয়ে মৃত ব্যক্তির কবরের পাশে গিয়ে পশু জবেহ করার কথা ভাবেন, যার কোনো বিধান বা ভিত্তি ইসলামি শরিয়তে নেই। (সহায়ক গ্রন্থ: মুসনাদে আহমাদ, ইলাউস সুনান, রদ্দুল মুহতার ও কাজিখান)

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন