ঈদুল আজহার নামাজ পড়ার নিয়ম, নিয়ত ও মাসায়েল

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০৩:৫৯ অপরাহ্ণ
ঈদুল আজহার নামাজ পড়ার নিয়ম, নিয়ত ও মাসায়েল

নিজস্ব প্রতিবেদক : মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয় উৎসবগুলো কেবল নিছক আনন্দের কোনো উপলক্ষ নয়, বরং তা অন্য যেকোনো জাতির উৎসব থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এবং অনন্য বৈশিষ্ট্যে ভাস্বর। মহান আল্লাহর জিকির ও তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের জয়গান ঘোষণার মাধ্যমেই মূলত একজন মুমিনের ঈদের দিনটি শুরু হয়। আর ঈদুল আজহার পবিত্রতম দিনে মুসলমানদের সর্বপ্রথম এবং প্রধান আমল হলো ‘ঈদের নামাজ’ আদায় করা।

ঈদের এই বিশেষ নামাজ সম্পর্কে নবী কারিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আজকের দিনে আমরা সর্বপ্রথম ঈদের নামাজ আদায় করব, এরপর কোরবানি করব...’ (সহিহ বুখারি)। ঈদের এই গুরুত্বপূর্ণ নামাজটি নিখুঁত ও শুদ্ধভাবে সম্পন্ন করার জন্য নামাজের নিয়ত, এর বিভিন্ন ধাপ, অতিরিক্ত তাকবিরের সঠিক নিয়ম এবং সুন্নত অনুযায়ী কেরাত পাঠের পদ্ধতি সম্পর্কে প্রতিটি মুসলমানের স্পষ্ট ধারণা থাকা একান্ত প্রয়োজন। পাঠকদের সুবিধার্থে ঈদুল আজহার নামাজের সঠিক নিয়ম, নিয়ত এবং প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক বিধানসমূহ নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো—

ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, মনের ইচ্ছাই হলো মূলত নিয়ত। ঈদুল আজহার নামাজে দাঁড়ানোর সময় অন্তরে এই স্মরণ থাকা যথেষ্ট যে, আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করছি। এই নিয়তের সঙ্গে মনে রাখতে হবে যে, ‘ঈদের নামাজ ওয়াজিব এবং এ নামাজে অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির রয়েছে।’

বাংলায় এভাবে নিয়ত করা যায়—‘আমি কেবলামুখী হয়ে ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ছয় তাকবিরের সঙ্গে এই ইমামের পেছনে আদায়ের নিয়ত করছি।’ এরপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত বেঁধে নামাজ শুরু করতে হবে। যারা বিশুদ্ধভাবে আরবি বলতে পারেন, তারা আরবিতেও নিয়ত করতে পারেন। তবে মুখে আরবি নিয়ত উচ্চারণ করা কোনো আবশ্যকীয় বিষয় নয়।

ঈদুল আজহার নামাজ মূলত দুই রাকাত। প্রথমে নিয়ত করে তাকবিরে তাহরিমা (আল্লাহু আকবার) বলে হাত বেঁধে ছানা পড়তে হবে। ছানা পড়া শেষ হলে ইমাম সাহেবের সঙ্গে উচ্চৈঃস্বরে আরও তিনটি অতিরিক্ত তাকবির বলতে হবে।

প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবির বলার সময় উভয় হাত কানের লতি পর্যন্ত উঠিয়ে হাত না বেঁধে ছেড়ে দিতে হবে (ঝুলিয়ে রাখতে হবে)। এরপর তৃতীয় তাকবির বলার সময় একইভাবে কানের লতি পর্যন্ত হাত উঠিয়ে এবার না ছেড়ে নাভির ওপরে বেঁধে নিতে হবে। অতঃপর ইমাম সাহেব নিয়ম অনুযায়ী সুরা-কেরাত পড়ে রুকু ও সিজদার মাধ্যমে প্রথম রাকাত সম্পন্ন করবেন।

দ্বিতীয় রাকাতে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে প্রথমে ইমাম সাহেব সুরা ও অন্য একটি সুরা মিলিয়ে কেরাত পাঠ শেষ করবেন। এরপর রুকুতে যাওয়ার ঠিক পূর্বে আগের নিয়মে অতিরিক্ত তিনটি তাকবির বলতে হবে। তবে দ্বিতীয় রাকাতের ক্ষেত্রে এই তিনটি তাকবির বলার সময় হাত না বেঁধে প্রতিবারই ছেড়ে দিতে হবে। এরপর চতুর্থবার যখন তাকবির বলা হবে, তখন হাত না উঠিয়ে সরাসরি রুকুতে চলে যেতে হবে। এরপর অন্যান্য সাধারণ নামাজের মতোই যথারীতি রুকু-সিজদা ও তাশাহুদ-সালামের মাধ্যমে নামাজ শেষ করতে হবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদের নামাজে বিশেষ কিছু সুরা তিলাওয়াত করতেন। সুন্নাহ অনুযায়ী, ঈদের নামাজে প্রথম রাকাতে ‘সুরা আ‘লা’ এবং দ্বিতীয় রাকাতে ‘সুরা গাশিয়াহ’ পড়া উত্তম। অথবা প্রথম রাকাতে ‘সুরা কফ’ এবং দ্বিতীয় রাকাতে ‘সুরা কমার’ পাঠ করাও সুন্নাত। তবে এগুলো মুখস্থ না থাকলে অন্য যেকোনো সুরা দিয়ে নামাজ আদায় করলেও কোনো ক্ষতি নেই। জুমার নামাজের মতোই ঈদের নামাজের কেরাতও ইমাম সাহেবকে উচ্চৈঃস্বরে (জেহরি) পড়তে হবে, যা ওয়াজিব হিসেবে গণ্য।

কখনো কখনো ঘুম থেকে দেরিতে ওঠা, যাতায়াত কিংবা অন্য কোনো অনিবার্য কারণে কারো ঈদের প্রধান জামাত ছুটে যেতে পারে। তখন অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, ঈদের নামাজ কি পরবর্তীতে একাকী কাজা হিসেবে আদায় করা যাবে?

এ প্রসঙ্গে রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী একটি গণমাধ্যমকে বলেন, “ইসলামী শরিয়তে ঈদের নামাজের কোনো কাজা বিধান নেই। তাই কোনো কারণে যদি কারো মূল জামাত ছুটে যায়, তবে তার প্রধান দায়িত্ব হবে দ্রুত আশপাশের অন্য কোনো ঈদগাহ বা মসজিদে দ্বিতীয় কোনো জামাত হচ্ছে কিনা তা খুঁজে বের করে সেখানে শরিক হওয়া। যদি এমন কোনো সুযোগ আর না থাকে, তবে নামাজ ছুটে যাওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে অন্তরের অন্তস্তল থেকে তওবা ও ইস্তেগফার করতে হবে।”

জান্নাত সকালাবেলা

মন্তব্য করুন