মিশরের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুফতি আব্দুল কাইয়ূমের সর্বোচ্চ ফলাফলে এমফিল ডিগ্রি অর্জন
সকালবেলা অনলাইন: মিশরের ঐতিহ্যবাহী আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক থিওলজি অনুষদের তাফসির ও উলুমুল কুরআন বিভাগের গবেষক আব্দুল কাইয়ূম এমফিল থিসিস ডিসকাশন সেমিনারে সর্বোচ্চ ফলাফল ‘মুমতাজ’ (Excellent) অর্জন করেছেন।
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০টায় কায়রোর দাররাসায় অবস্থিত অনুষদের ইমাম আয-যাহাবি মিলনায়তনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে থিসিস পর্যালোচনা শেষে তাঁকে এ সর্বোচ্চ স্থান প্রদান করা হয়।
মেধাবী এই গবেষকের বাড়ি ঢাকার কদমতলী থানার মোহাম্মাদ বাগ (মেরাজ নগর) এলাকায়। তাঁর বাবা মরহুম নুরুল ইসলাম। আব্দুল কাইয়ূম ২০০৫ সালে ফরিদাবাদ মাদ্রাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করে ২০০৬ সালে ইফতা সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি ২০০৮ সালে দাখিল এবং ২০১০ সালে জিপিএ-৫ (এ প্লাস) পেয়ে আলিম সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে মিশরের আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সানুবিয়া, ২০১৭ সালে অনার্স এবং ২০২০ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। দীর্ঘ এ ধারাবাহিক শিক্ষাজীবনের পর ২০২৬ সালে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফলভাবে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করলেন। বর্তমানে তিনি সপরিবারে মিশরে বসবাস করছেন।
তাঁর গবেষণাপত্রের শিরোনাম ছিল— «تعليقة على أوائل تفسير البيضاوي للشيخ إسماعيل حقي البروسوي، (ت ۱۱۳۷ هـ) من أول قوله تعالى: ”الحمد لله رب العالمين“ إلى قوله تعالى: ”ولا الضالين“: تحقيق ودراسة» ‘শাইখ ইসমাইল হাক্কি আল-বুরুসাবি (মৃত্যু ১১৩৭ হিজরি) রচিত তাফসিরুল বাইযাবির শুরুরাংশের (সুরা ফাতিহর) ওপর টীকা—আল্লাহর বাণী ‘আল-হামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামিন’ থেকে ‘ওয়ালাদ দ্দাল্লিন’ পর্যন্ত: সম্পাদনা ও পর্যালোচনা।’
সেমিনারে সুপারভাইজার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কায়রোর ইসলামিক থিওলজি অনুষদের তাফসির ও উলুমুল কুরআন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল করিম কাসিব, আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট অনুষদের প্রাক্তন ওয়াকিল ও প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান ড. মুহাম্মাদ হাসান মুহাম্মাদ সাবাতান এবং আল-মানুফিয়া শাখার সহকারী অধ্যাপক ড. আব্দুল গাফফার আহমাদ আব্দুল গাফফার।
গবেষক আব্দুল কাইয়ূম আযহার ওয়েলফেয়ার সোসাইটি বাংলাদেশ (মিশর)-এর একজন সদস্য। তাঁর এই অসামান্য কৃতিত্বে সংগঠনের সভাপতি আবদুর রহমান মুহাম্মাদ নওয়াব ও সেক্রেটারি মিসবাহুল হক মেরাজীসহ নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। সেমিনারে দেশ-বিদেশের প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন, যাদের জন্য পরবর্তীতে বাঙালি খাবারের আপ্যায়ন করা হয়।
বিশ্বখ্যাত আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ফলাফলে এমফিল ডিগ্রি অর্জন বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও গবেষক সমাজের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়।
এআইএল/সকালবেলা