আদ্-দ্বীন হাসপাতালে অবহেলায় আবার রোগী মৃত্যুর অভিযোগ

প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৬:২২ অপরাহ্ণ
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে অবহেলায় আবার রোগী মৃত্যুর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর: যশোরের পুলেরহাটে অবস্থিত আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের চরম অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় ইমরান (৩৫) নামে এক মাছ ব্যবসায়ীর মর্মান্তিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে হাসপাতাল চত্বরে নিহতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতার মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং তারা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইমরান যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া গাজীপাড়ার শওকত আলী বিশ্বাসের ছেলে। তিনি পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে তীব্র জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে ইমরানকে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তাকে পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা কোনো ধরনের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই ইমরানের শরীরে একের পর এক ইনজেকশন প্রয়োগ করতে থাকেন।

নিহতের খালাতো ভাই ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “প্রথম ইনজেকশন দেওয়ার পর থেকেই ইমরান ছটফট করছিলেন এবং তীব্র অস্বস্তি অনুভব করছিলেন। আমরা বারবার ডাক্তারদের জানালেও তারা বিষয়টি আমলেই নেননি। পরে জোর করে আরও একটি ইনজেকশন দেওয়ার সাথে সাথে ইমরানের মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে শুরু করে এবং চোখের পলকে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।” এরপর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত আইসিইউতে (ICU) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ইমরানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শার্শা থেকে তাঁর শত শত প্রতিবেশী ও স্বজন হাসপাতালে ছুটে এসে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা ভুল চিকিৎসায় জড়িত চিকিৎসকদের শাস্তির দাবিতে হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোতোয়ালি থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে ক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসা অবহেলা ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই ঘটনায় নিহতের বাবা শওকত আলী বিশ্বাস বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. ইমদাদ হোসেন বলেন, “রোগীকে চিকিৎসাবিজ্ঞান মেনেই গ্যাসের ইনজেকশন, অ্যান্টিবায়োটিক এবং স্যালাইন দেওয়া হচ্ছিল। পরবর্তীতে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ হিসেবে ‘হাইসোমাইড’ দেওয়া হয়। সম্ভবত কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের (হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ) কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, “মোবাইল ফোনে ঘটনাটি জেনেছি। সরকারি ছুটি শেষে আগামী রবিবার অফিস খোলার পর ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানান, লাশ ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে, বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন