ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: একুশ শতকের আধুনিক প্রযুক্তি আর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী দর্শনের মেলবন্ধনে বাংলাদেশে শুরু হলো এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খাল খননের মাধ্যমে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলাশয় খনন, পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধার কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ৫৪টি জেলায় একযোগে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিকে দেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ‘দ্বিতীয় কৃষি বিপ্লব’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সত্তরের দশকের শেষে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ‘উলাশী-যদুনাথপুর’ প্রকল্প থেকে যে খাল খনন আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন, দীর্ঘ কয়েক দশক পর তাঁরই উত্তরসূরি তারেক রহমান সেই ঐতিহ্যবাহী কর্মসূচিকে আধুনিক রূপে ফিরিয়ে আনলেন। এবারের কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি।
২ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই প্রকল্পের একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৫ বছরের মধ্যে সারা দেশে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা ও খাল খনন করা হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে আগামী ৬ মাসে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার খনন সম্পন্ন করা হবে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় চলমান প্রকল্পের আওতায় ৭ হাজার ৪০২ কিলোমিটার এবং নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে ১২ হাজার ৫৯৮ কিলোমিটার খাল খনন করবে। কেবল যন্ত্র নয়, স্থানীয় মানুষের কায়িক শ্রমকেও এখানে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে সরাসরি মজুরির মাধ্যমে গ্রামীণ মানুষের কর্মসংস্থান হয়।
শহীদ জিয়াউর রহমানের আমলে প্রায় দেড় হাজার খালের মাধ্যমে ২৬ হাজার কিলোমিটার এলাকা সেচ সুবিধার আওতায় এসেছিল। বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এই কর্মসূচিকে পুনর্বাস্তবায়নের যে অঙ্গীকার করেছিল, সরকার গঠনের মাত্র এক মাসের মাথায় তা কার্যকর শুরু হলো। গবেষকদের মতে, হারিয়ে যাওয়া ৫২০টি নদী ও হাজার হাজার খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে পারলে বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে অনেকটা এগিয়ে যাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষার পানি ধরে রাখা এবং শুষ্ক মৌসুমে তা সেচ কাজে ব্যবহার করার এই ‘জিয়া মডেল’ যদি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে কৃষিতে খরচ কমবে এবং উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া খালগুলোতে মাছ চাষের মাধ্যমে আমিষের চাহিদা পূরণ ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে। দিনাজপুরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, খাল কেবল পানি বয়ে নেয় না, এটি আমাদের কৃষকের প্রাণশক্তি। আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গ্রামবাংলাকে আবার স্বনির্ভর করে গড়ে তুলব। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের কৃষি অবকাঠামোতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছে সাধারণ মানুষ।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ