সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য জরুরি ১১ নির্দেশনা

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য জরুরি ১১ নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি সেবাগ্রহীতা নাগরিকদের সুবিধা নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। এখন থেকে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ অফিস কক্ষে অবস্থান করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোসা. তানিয়া ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এই আদেশ প্রতিপালনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ইতিপূর্বে এই নির্দেশনা দেওয়া হলেও এর কিছু ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই প্রশাসনিক সমন্বয় ও শৃঙ্খলা ফেরাতে ১১টি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রতিপালন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

১. অফিসে উপস্থিতি: প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আবশ্যিকভাবে নিজ অফিস কক্ষে অবস্থান করতে হবে। 

২. কর্মসূচি প্রণয়ন: দাপ্তরিক কর্মসূচি বা মিটিং নির্ধারণের ক্ষেত্রে সকাল ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সময়সীমা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। 

৩. প্রাকৃতিক আলোর ব্যবহার: দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। জানালা, দরজা বা ব্লাইন্ড খোলা রেখে সূর্যের আলো ব্যবহার করতে হবে। 

৪. সীমিত সরঞ্জাম ব্যবহার: অফিস চলাকালীন শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় সংখ্যক লাইট, ফ্যান ও এসি ব্যবহার করতে হবে। 

৫. এসি নিয়ন্ত্রণ: এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা অবশ্যই ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখতে হবে। 

৬. কক্ষ ত্যাগের সতর্কতা: অফিস কক্ষ ত্যাগ করার সময় বাতি, ফ্যান ও এসিসহ সকল বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ করতে হবে। 

৭. অপ্রয়োজনীয় বাতি বন্ধ: করিডোর, সিঁড়ি ও ওয়াশরুমের মতো স্থানে অপ্রয়োজনীয় বাতি জ্বালিয়ে রাখা যাবে না। ৮. দিনের শেষে নিশ্চিতকরণ: অফিস শেষ হওয়ার পর কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার ও এসিসহ সব সরঞ্জাম বন্ধ করা নিশ্চিত করতে হবে। 

৯. আলোকসজ্জা পরিহার: সরকারি বিশেষ নির্দেশনা ব্যতিরেকে কোনো ধরনের কৃত্রিম আলোকসজ্জা করা যাবে না। 

১০. জ্বালানি সাশ্রয়: অফিসিয়াল কাজে জ্বালানি বা তেলের ব্যবহারে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী হতে হবে। 

১১. পরিচ্ছন্নতা ও মনিটরিং: অফিস কক্ষ, সিঁড়ি ও ওয়াশরুম নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। এসব নির্দেশনা তদারকির জন্য প্রতিটি দপ্তর বা সংস্থাকে একটি ‘ভিজিল্যান্স টিম’ গঠন করতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষ সকালে অফিসে গিয়ে কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎ পাবেন এবং সরকারি সম্পদ সাশ্রয় হবে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন