ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
২৫শে মার্চের সেই বিষাদময় দুপুর। দৌলতদিয়া ফেরিঘাট তখন ব্যস্ত। পন্টুনে ওঠার অপেক্ষায় ছিল একটি যাত্রীবাহী বাস। হঠাৎ সব ওলটপালট। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি মুহূর্তেই তলিয়ে গেল পদ্মার অতল গহ্বরে।
বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মরণপণ লড়াই, আর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের অসহায়ত্ব—সব মিলিয়ে এক হাহাকারময় পরিবেশ। এই আকস্মিক বিচ্ছেদ যে কত গভীর ক্ষত তৈরি করে, তা কেবল ভুক্তভোগী পরিবারগুলোই জানে। অনেক সময় আপন মানুষকে শেষ দেখার সুযোগটুকুও মেলে না। দাফনের আগে প্রিয় মুখটি একবার দেখতে না পাওয়ার যন্ত্রণা অসীম।
এই তীব্র যন্ত্রণা আর আক্ষেপের মাঝেই ধর্মের অমিয় বাণী হয়ে আসে এক বিশেষ সান্ত্বনা। ইসলামে স্বাভাবিক মৃত্যুর বাইরেও কিছু মৃত্যুকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ বলা হয়েছে। হাদিসের কিতাবগুলোতে এর বর্ণনা আছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার সাহাবিদের জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘তোমরা কাদের শহীদ মনে করো?’ সাহাবিরা বললেন, ‘যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়।’ নবীজি (সা.) জানালেন, কেবল তারাই নন, আরও কিছু কারণে মৃত্যুবরণকারীরা শাহাদাতের মর্যাদা পাবেন। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে রাসুল (সা.) স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘পানিতে ডুবে, কলেরায়, প্লেগে ও ভূমিধসে বা চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তিরা শহীদ।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭২০)
দৌলতদিয়া ঘাটের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, জাগতিক দৃষ্টিতে তারা দুর্ঘটনার শিকার। কিন্তু মুমিনের বিশ্বাস ও হাদিসের ঘোষণা অনুযায়ী, তারা আল্লাহর দরবারে ‘শহীদ’। এই মর্যাদা সাধারণ কিছু নয়। এটি জান্নাতের উচ্চ মাকাম আর মহান রবের বিশেষ অনুগ্রহের প্রতীক।
স্বজনহারা পরিবারগুলোর জন্য এটি হৃদয়ে শান্তি নামানো এক পরম সান্ত্বনা। যে প্রিয় মানুষটি আজ চোখের আড়াল হলেন, তিনি পরকালে এক ঈর্ষণীয় সফলতার অধিকারী। শেষ দেখা না পাওয়ার যে অপূর্ণতা স্বজনদের কুরে কুরে খায়, সেখানে জায়গা করে নিতে পারে প্রিয়জনের ‘শহীদি মর্যাদা’র গর্ব।
দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি। তবে নিয়তি যখন সামনে আসে, তখন আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকাই মুমিনের পরিচয়। আল্লাহ নিহতদের শাহাদাত কবুল করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে ধৈর্য ধরার শক্তি দিন। আমিন।
লেখক: রকিব মুহাম্মদ, বার্তা সম্পাদক , দৈনিক সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ