দেশে প্রথম অ্যাডভান্সড রিমোট কন্ট্রোল সেন্ট্রি ওয়েপন সিস্টেম তৈরি করলো এমআইএসটি

দেশে প্রথম অ্যাডভান্সড রিমোট কন্ট্রোল সেন্ট্রি ওয়েপন সিস্টেম তৈরি করলো এমআইএসটি

দেশে প্রথম অ্যাডভান্সড রিমোট কন্ট্রোল সেন্ট্রি ওয়েপন সিস্টেম তৈরি করলো এমআইএসটি

হেলাল মুন্সী, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: বাংলাদেশের সামরিক প্রযুক্তি গবেষণায় নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)। প্রতিষ্ঠানটির একদল তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীর উদ্ভাবিত অ্যাডভান্সড সেন্ট্রি সিস্টেমটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘অন্তিম প্রাচীর–ওয়ান’। শিগগিরই এই সিস্টেমের পরীক্ষামূলক টেস্ট ফায়ারিং সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে।

রিমোট কন্ট্রোল সেন্ট্রি ওয়েপন সিস্টেম মূলত একটি আধুনিক রোবটিক পাহারাদার ব্যবস্থা, যেখানে অস্ত্র সরাসরি মানুষের উপস্থিতি ছাড়াই দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অপারেটর নিরাপদ বাংকার বা কয়েক কিলোমিটার দূরের কন্ট্রোল স্টেশনে বসে মনিটরে লাইভ ভিডিও দেখে জয়স্টিকের মাধ্যমে লক্ষ্য স্থির করে অস্ত্র পরিচালনা করতে পারেন।

এই সিস্টেমের তিনটি প্রধান অংশ রয়েছে। প্রথমত, অস্ত্র বহনকারী ঘূর্ণনযোগ্য প্ল্যাটফর্ম, যা ৩৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত ঘুরতে সক্ষম। দ্বিতীয়ত, আধুনিক সেন্সর ব্যবস্থা—হাই ডেফিনিশন ক্যামেরা, ইনফ্রারেড প্রযুক্তি ও লেজার রেঞ্জ ফাইন্ডার যুক্ত করার সুবিধা রয়েছে, যার মাধ্যমে দিন-রাত ও প্রতিকূল আবহাওয়াতেও নজরদারি সম্ভব। তৃতীয়ত, রিমোট কন্ট্রোল স্টেশন, যেখানে বসে অপারেটর পুরো সিস্টেম পরিচালনা করেন।

এই অ্যাডভান্সড সেন্ট্রি সিস্টেমের অন্যতম বড় সুবিধা হলো সৈন্যদের জীবনঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া। কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম বাতাসের গতি ও দূরত্বের মতো তথ্য বিশ্লেষণ করে লক্ষ্যভেদে সহায়তা করতে পারে, যা সাধারণ মানুষের তুলনায় অধিক নিখুঁত। পাশাপাশি, এটি ২৪ ঘণ্টা ক্লান্তিহীনভাবে সীমান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পাহারা দিতে সক্ষম।

ভবিষ্যতে আপগ্রেডের মাধ্যমে এই সিস্টেম ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান (এপিসি)-এর ওপর স্থাপন করার পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে সৈন্যদের বাইরে বের না হয়েই ভেতর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়, ঘন জঙ্গল কিংবা সীমান্তবর্তী সংবেদনশীল এলাকায় এ ধরনের রোবটিক সেন্ট্রি পোস্ট বসানো হলে তা অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন