তারেক রহমানের বিচক্ষণতায় উৎসবমুখর দুর্গাপূজা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৫ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের বিচক্ষণতায় উৎসবমুখর দুর্গাপূজা

অনলাইন ডেস্ক: সকল শঙ্কা, ভয় ও অতীত তিক্ত অভিজ্ঞতা উপেক্ষা করে বৈষম্যহীন বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা এবার অভূতপূর্ব শান্তি, উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়েছে। গত বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শুভ বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে মর্ত্যলোক থেকে বিদায় নেন দেবী দুর্গা।

অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার দুর্গাপূজা উদযাপন ছিল অনেক বেশি আনন্দঘন ও নিবিড়। বিএনপির নেতৃত্বাধীন তারেক রহমানের সরকার এই উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে দেশে প্রথমবারের মতো পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করে এবং মণ্ডপগুলোতে অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। এর আগে প্রতিমা ভাঙচুর বা নানা অপপ্রচারের কারণে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে যে আতঙ্কের মেঘ জমেছিল, তা কাটাতে সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

পূজায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিদিন দেশজুড়ে সাড়ে ছয় হাজার এসআরবি (SRB) সদস্য, সাড়ে ৫০০ টহল পিকআপ ও সাড়ে ৪০০ মোটরসাইকেলসহ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে ডগ স্কোয়াড এবং বোম ডিসপোজাল ইউনিট সক্রিয় রেখে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হয়, যার ফলে এবার সারা দেশের কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সরকারপ্রধান ঢাকার গণ্ডি পেরিয়ে সরেজমিনে ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলার দুর্গোৎসবে যোগ দেন। সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে শারদীয় নবমীর দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে উত্তরাঞ্চলের রংপুর, রাজশাহী এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পূজামণ্ডপগুলো পরিদর্শন করেন।

তিনি রংপুরের ঐতিহ্যবাহী রাধাগোবিন্দ ধর্মসভা মন্দির ও রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজা মণ্ডপে উপস্থিত হয়ে পূজারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও শুভেচ্ছা জানান। পরবর্তীতে রাত ৮টা ২০ মিনিটে তিনি চট্টগ্রাম নগরীর রহমতগঞ্জের জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপে পৌঁছান। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের নেতারা জানান, গত ৪০ বছরে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী জেএম সেন হলে স্বশরীরে দুর্গাপূজা দেখতে এসেছেন। এ সময় হাজার হাজার দর্শনার্থী উলুধ্বনি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

মণ্ডপগুলোতে প্রদত্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, "আমাদের দেশ গঠনে ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সব ধর্ম, বর্ণ ও মতের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে। আগামী দিনের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতেও সব ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।"

তিনি স্পষ্ট আশ্বাস দেন যে, সরকার প্রতিটি নাগরিকের স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখাই তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রীর এই দূরদর্শী ও বিচক্ষণ নেতৃত্বের কারণে এবারের দুর্গোৎসবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এক রূপান্তরকামী বাংলাদেশের ছবি ফুটে উঠেছে।

সকালবেলা / নুসরাত