আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে পর্যাপ্ত এলপিজি আমদানি হয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা
অনলাইন ডেস্ক: দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) কোনো প্রকৃত সংকট নেই উল্লেখ করে অসাধু চক্রের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, অসাধু উদ্দেশ্যে কেউ এলপিজি মজুত কিংবা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে জনঅসন্তোষ ছড়ানোর চেষ্টা করলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও সমসাময়িক বিষয়াদির অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পরিসংখ্যান ও প্রাপ্ত তথ্যের বরাতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, দেশে এলপিজি আমদানি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। বিগত আগস্ট মাসে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। আর চলতি সেপ্টেম্বর মাসের এ পর্যন্ত আমদানি সম্পন্ন হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন। সার্বিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে বলা যায়, বর্তমানে দেশে এলপিজির সরবরাহ ও নিরাপত্তা মজুত বেশ সন্তোষজনক অবস্থানে রয়েছে।
উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, "বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাথে এলপিজি আমদানিকারক ও প্রধান অপারেটরদের শীর্ষ পর্যায়ের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে আমদানিকারকরা স্পষ্ট নিশ্চিত করেছেন যে, দেশীয় বাজারে এলপিজি সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই।"
তবে পর্যাপ্ত পরিমাণ মজুত থাকার পরও বাজারে নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় দাম বাড়ার অসাধু প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি জানান, অসাধু উদ্দেশ্যে ব্যবসায়ীরা যেন অযৌক্তিক মজুতদারি করে জনগণের ভোগান্তি না বাড়ান, সে বিষয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সবাইকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান বিশ্বে পণ্যসামগ্রীর বাজারে এক ধরনের কৃত্রিম জল্পনামূলক বা প্রাক্কলিত প্রবণতা তৈরি হচ্ছে, যার সাময়িক প্রভাবে স্থানীয় বাজারেও দাম বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সরকার সম্পূর্ণ বিষয়টি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।