কম গ্যাস মজুদ নিয়ে শীতের মুখে জার্মানি

প্রকাশ: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৬ অপরাহ্ণ
কম গ্যাস মজুদ নিয়ে শীতের মুখে জার্মানি

অনলাইন ডেস্ক: স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ নিয়ে শীত মৌসুমে প্রবেশ করছে ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতি জার্মানি। সেপ্টেম্বরের শেষ সময়ে এসে দেশটির গ্যাস সংরক্ষণাগারগুলো মাত্র ৫৭ শতাংশ পূর্ণ রয়েছে, যা সামগ্রিক ইউরোপীয় গড়ের তুলনায় অনেকটাই কম। তবে এই পরিস্থিতিতেও গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে বড় কোনো বিপর্যয়ের ঝুঁকি দেখছে না জার্মানির প্রধান গ্যাস আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘ভিএনজি’।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী (সিইও) উলফ হাইটমুলার এক সাক্ষাৎকারে জানান, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর তৈরি হওয়া প্রথম জ্বালানি সংকটের সময়ের তুলনায় জার্মানির গ্যাস সরবরাহব্যবস্থা এখন অনেক বেশি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত।

হাইটমুলার জানান, রাশিয়া থেকে পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর জার্মানি একটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তাদের আমদানির উৎস বহুলাংশে বিস্তৃত করেছে। বর্তমানে নরওয়ে থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানির পাশাপাশি আলজেরিয়া ও আজারবাইজানের সঙ্গেও চুক্তি করা হয়েছে। এছাড়া তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভিএনজি প্রধানের মতে, গ্যাসের মজুদের শতাংশই সরবরাহ নিরাপত্তার একমাত্র মাপকাঠি নয়। পাইপলাইন ও এলএনজি আমদানির অবকাঠামো প্রস্তুত থাকায় তীব্র শীতেও গ্রাহকদের কাছে জ্বালানি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

তবে জ্বালানি খাতে বেশ কিছু বৈশ্বিক ঝুঁকি রয়েই গেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে এলএনজির সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পুরো ইউরোপের গ্যাস বাজারে; প্রতি মেগাওয়াট ঘণ্টা গ্যাসের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে প্রায় ৭৫ ইউরোতে পৌঁছেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানি কমিশনার ড্যান ইয়র্গেনসেন ইতিমধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, চলতি শীত মৌসুমে ইইউভুক্ত দেশগুলোকে গ্যাসের বাড়তি দামের মুখোমুখি হতে হতে পারে। এজন্য সদস্য দেশগুলোকে ব্যবহার কমানো ও মজুদ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে জার্মান সরকার গ্যাসের মজুত দ্রুত বাড়াতে বাজারে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসের অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে দরপত্র ডাকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছে ভিএনজি। পাশাপাশি রাজধানী বার্লিনে কোনো হঠাৎ সংকট সামলাতে একটি কৌশলগত গ্যাস মজুদ গড়ে তোলার যে আলোচনা চলছে, সেটিকেও দেশের জন্য অতিরিক্ত অর্থনৈতিক সুরক্ষাকবচ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

মন্তব্য করুন