ব্যক্তিগত আবেগে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা ও নাগরিকত্ব বিতর্ক
বিশেষ প্রতিনিধি: একজন রাজনীতিক স্পষ্টভাষী বা আপসহীন হতে পারেন, কিন্তু সরকার কোনো গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই যদি কোনো প্রতিমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় অবস্থান হিসেবে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করেন, তবে প্রশ্ন ওঠে—পররাষ্ট্রনীতি আসলে কে নির্ধারণ করছেন?
যুক্তরাজ্যে কাজের অভিজ্ঞতা থাকা এবং ১০ ডাউনিং স্ট্রিট ও লুইশামের মেয়রের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকারী প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের অভিজ্ঞতা সন্দেহাতীতভাবে সমৃদ্ধ। তবে এই অভিজ্ঞতা কাউকেই প্রাতিষ্ঠানিক সীমার বাইরে গিয়ে রাষ্ট্রের পক্ষে মন্তব্য করার অধিকার দেয় না।
সম্প্রতি তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ সংক্রান্ত যৌক্তিক প্রশ্নে সাংবাদিকদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ এবং ২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা 'মইন-ফখরউদ্দিন' প্রসঙ্গ টানা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সরকারি পদে থাকা ব্যক্তির কাছে যৌক্তিক প্রশ্নের ব্যাখ্যা চাওয়া কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং এটি একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে তাঁর হুটহাট বক্তব্য। সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যকার 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, বাংলাদেশ সেখানে যোগ দিতে আগ্রহী। যদিও বিভিন্ন সূত্রে স্পষ্ট হয়েছে যে বাংলাদেশ এই বিষয়ে এখনো কোনো রূপরেখা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি।
ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশ ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ নীতিতে বিশ্বাসী। কোনো বিশেষ সামরিক বা প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হওয়া বা স্পর্শকাতর মন্তব্য করা ভারতসহ প্রতিবেশী ও বৈশ্বিক বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে।
পররাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই আবেগ বা কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর ভিত্তি করে হতে পারে না; এটি হওয়া উচিত কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক পর্যালোচনা ও জাতীয় স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে। বাংলাদেশকে নিশ্চিত করতে হবে যে, যখন কোনো মন্ত্রী আন্তর্জাতিক মঞ্চে বা সংবাদমাধ্যমে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কথা বলবেন, তা যেন শুধুই সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে—কোনো ব্যক্তিগত আবেগ বা মতাদর্শের নয়।
|