শতাব্দীর ভয়াবহতম ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত কলম্বিয়া: নিহত ২৬৫, ধ্বংস ৯ হাজার ঘরবাড়ি
অনলাইন ডেস্ক: লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের চার দিন পরও ধসে পড়া হাজার হাজার ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের সন্ধানে অবিরাম লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। গত সোমবারের ৭.৪ মাত্রার এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬৫ জনে। ভয়াবহ এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩ হাজার ৪৯৪ জন এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪৯৬ জন মানুষ।
বুধবার (১২ আগস্ট, ২০২৬) সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েয়া জানান, দুর্ঘটনাস্থলগুলোতে পরিচালিত উদ্ধার অভিযান এখন চূড়ান্ত ও অত্যন্ত স্পর্শকাতর পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
সাধারণত ভূমিকম্পের পর প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টাকে জীবিত উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় বা 'গোল্ডেন আওয়ার' হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সেই সময় পার হয়ে গেলেও আশা হারাননি উদ্ধারকর্মীরা। কালির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের বলেন, "উদ্ধার কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো মানেই আশা শেষ হয়ে যাওয়া নয়, তবে সময় যত গড়াচ্ছে জীবিত উদ্ধার করা ততই কঠিন ও জটিল হয়ে উঠছে।"
চলতি শতাব্দীতে কলম্বিয়ার মাটিতে আঘাত হানা এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ৫৫০টিরও বেশি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। দেশের কফি উৎপাদন অঞ্চলের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু পেরেইরা শহরে ৮৩ জন এবং তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালিতে ৭৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
পেরেইরায় একটি ধসে পড়া বেকারির নিচে আটকে থাকা সড়ক বিক্রেতা পাবলো লোয়াইজাকে জীবিত উদ্ধারে স্বজনেরা ধ্বংসস্তূপের পাশে অপেক্ষা করছেন। অত্যাধুনিক সেন্সরে সাড়া পাওয়ার পর উদ্ধারকারীরা পুরো এলাকা নীরব করে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। খালি হাতের পাশাপাশি ভারী ক্রেন, লাইফ ট্রেকার সেন্সর ও প্রশিক্ষিত কে-নাইন কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েয়া। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাজার হাজার আহতদের সেবা এবং ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনে জরুরি তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, মাত্র তিন দিন আগে দেশের মসনদে বসা নতুন প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েয়ার জন্য এটি প্রথম ও সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক পরীক্ষা। নির্বাচনী প্রচারণায় সরকারি ব্যয় ও ঝুঁকিপূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের বাজেট কমানোর যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, ঠিক সেই সরকারি সংস্থাগুলোকেই এখন দুর্যোগ মোকাবিলায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হচ্ছে। ফলে এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় এখন নতুন সরকারের জন্য প্রশাসনিক দক্ষতা ও সক্ষমতার এক কঠিন চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
|