মানবাধিকার নিয়ে ফ্রান্সের অবস্থান নির্লজ্জ ও দ্বিচারিতা: ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন সুরক্ষার দাবিতে ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থানকে ‘নির্লজ্জ ও বিব্রতকর দ্বিচারিতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
ফ্রান্সসহ ২৬টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস যৌথভাবে ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানানোর পর তেহরানের পক্ষ থেকে এই কড়া প্রতিক্রিয়া এল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আব্বাস আরাগচি বলেন, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে বিশ্বের অন্য দেশগুলোকে নীতিশিক্ষা দেওয়ার আগে ফ্রান্সের উচিত নিজেদের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ও নীতি পর্যালোচনা করা।
গাজা ও ইরানের বিষয়ে ফরাসি ভূমিকার সমালোচনা:
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গাজায় ইসরায়েলের পরিচালিত সামরিক অভিযানে ফ্রান্সের অব্যাহত সমর্থন এবং ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিভিন্ন আগ্রাসনে তাদের ভূমিকা ফ্রান্সের কথিত 'নৈতিক অবস্থানকে' পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক আইনের তথাকথিত রক্ষক হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করলেও গাজায় ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও ফ্রান্স ইসরায়েলকে সমর্থন জোগাচ্ছে এবং একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলগত অবস্থানকে সহায়তা করছে।
পটভূমি ও পশ্চিমের প্রতি বার্তা:
এর আগে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ বিবৃতিতে ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত রাখা এবং তথাকথিত 'বিচারবহির্ভূতভাবে আটক' ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তির আহ্বান জানানো হয়।
তবে তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত পশ্চিমা দেশগুলো গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত না করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ওপর আক্রমণাত্মক নীতির সমর্থন বন্ধ না করবে, ততক্ষণ মানবাধিকার বা আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে পশ্চিমের কোনো দেশেরই অন্যদের উপদেশ দেওয়ার মতো নৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা থাকবে না।
|