জাপানে ভূতের বাড়িতে রাত কাটালে টাকা

প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৫ অপরাহ্ণ
জাপানে ভূতের বাড়িতে রাত কাটালে টাকা

অনলাইন ডেস্ক: ভূত বা অতিপ্রাকৃত শক্তির ভয় মানুষের চিরন্তন। কিন্তু সেই ভয়কে জয় করে যদি মাত্র এক রাতেই মোটা অঙ্কের টাকা আয় করা যায়, তবে কেমন হয়? দূরপ্রাচ্যের উন্নত দেশ জাপানের আবাসন খাতে ঠিক এমনই এক রোমাঞ্চকর ও ব্যতিক্রমী পেশার জনপ্রিয়তা দিন দিন আকাশচুম্বী হচ্ছে। এই পেশায় সাহসী মানুষদের নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে এমন সব বাড়িতে এক রাত কাটানোর জন্য ভাড়া করা হচ্ছে, যেগুলোকে স্থানীয় সমাজ ‘ভৌতিক’ বা ‘অভিশপ্ত’ বলে মনে করে।

বাড়ির মালিকদের মূল আশা—এভাবে সফলভাবে রাত কাটিয়ে প্রমাণ করা যাবে যে বাড়িগুলোতে কোনো ধরনের অতিপ্রাকৃত ঘটনা ঘটে না। এতে করে সাধারণ ক্রেতা ও ভাড়াটিয়াদের মনের দীর্ঘদিনের ভয় দূর হবে এবং বছরের পর বছর খালি পড়ে থাকা এই মূল্যবান সম্পত্তিগুলো আবার সহজে বিক্রি বা ভাড়া দেওয়া সম্ভব হবে।

কী এই ‘জিকো বুক্কেন’?:

জাপানে এই ধরনের কলঙ্কিত বা রহস্যময় বাড়িকে আইনি ও স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘জিকো বুক্কেন’। এসব বাড়িতে অতীতে কোনো না কোনো সময়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, আত্মহত্যা, অগ্নিকাণ্ডে মর্মান্তিক মৃত্যু কিংবা ‘একাকী মৃত্যু’র (কোডোকুশি) মতো ঘটনা ঘটেছে।

জাপানের পরিভাষায় ‘একাকী মৃত্যু’ বলতে বোঝায়—যেখানে কোনো বৃদ্ধ বা নিঃসঙ্গ ব্যক্তি সম্পূর্ণ একা থাকা অবস্থায় মারা যান এবং কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও বাইরের কেউ সেই মৃত্যুর খবর জানতে পারে না। জাপানি আইন অনুযায়ী, কোনো ফ্ল্যাট বা বাড়িতে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে তা পরবর্তী সম্ভাব্য ক্রেতা বা ভাড়াটিয়ার কাছে চুক্তি করার আগে বাধ্যতামূলকভাবে প্রকাশ করতে হয়। এই আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে সামাজিক কুসংস্কারে ভুগে বহু মানুষ এসব বাড়ি কিনতে বা ভাড়া নিতে চান না। ফলে দেশটির হাজার হাজার বাড়ি বছরের পর বছর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে।

এক রাতেই আয় ৬৭ হাজার টাকা ও বিশেষ সনদ: আবাসন খাতের এই বিশাল লোকসান ও সংকট দূর করতেই মাঠে নেমেছে কিছু বিশেষায়িত রিয়েল এস্টেট এজেন্সি। তারা বিশেষভাবে সাহসী ও মানসিক শক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিদের ওই নির্দিষ্ট বাড়িতে এক রাতের জন্য থাকার দায়িত্ব দেয়।

মাত্র এই এক রাতের ডিউটির জন্য ওই ব্যক্তিরা পান ৮৮ হাজার জাপানি ইয়েন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৭ হাজার টাকার সমান। তবে কাজটি কেবল ঘুমিয়ে থাকা নয়; রাত কাটানোর সময় তারা বাড়ির বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা, অডিও রেকর্ডার এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ যন্ত্র বসিয়ে পুরো বাড়ির পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি রাখেন।

যদি পুরো রাতের মধ্যে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক বা অলৌকিক কার্যকলাপের প্রমাণ না মেলে, তবে সেই সংস্থা থেকে বাড়িটির নামে একটি ‘নিরাপদ সনদ’ বা সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়। যেখানে স্পষ্টভাবে লেখা থাকে—বাড়িটিতে কোনো অতিপ্রাকৃত বা ক্ষতিকর কার্যকলাপের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

ঝুঁকি কমাতে কিছু কিছু জাপানি প্রতিষ্ঠান আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে। তারা ক্রেতাদের এই মর্মে ১০০% নিশ্চয়তা দিচ্ছে যে, তাদের কর্মী কর্তৃক কোনো বাড়িকে ‘নিরাপদ’ ঘোষণা করার পর ভবিষ্যতে যদি কোনো ক্রেতা সেখানে সত্যিই অলৌকিক ঘটনার মুখোমুখি হন এবং তার প্রমাণ দিতে পারেন, তবে কোম্পানি ভুক্তভোগীকে বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেবে। জাপানের এই আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক ভূতের ভয় তাড়ানোর ব্যবসা ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মন্তব্য করুন