আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে কেইন উইলিয়ামসনের অবসর

প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৫:০৩ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে কেইন উইলিয়ামসনের অবসর

ক্রীড়া ডেস্ক:বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম শৈল্পিক, ধ্রুপদী এবং আইকনিক ব্যাটার কেইন উইলিয়ামসন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আঙিনাকে চিরতরে বিদায় জানিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ও ট্রফি জয়ী এই অধিনায়ক আজ ওডিআই এবং টেস্ট ক্রিকেট থেকে একযোগে অবসরের ঘোষণা দিয়ে তাঁর সুদীর্ঘ ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের খাতায় শেষ দাগটি টেনে দিলেন।

আজ শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, অল-টাইম রেকর্ডস বুক ও কিউই ক্রিকেট খতিয়ান’ এবং ‘ব্যাটিং অ্যানালাইসিস, আইসিসি ইভেন্টস রেকর্ডস ও গ্লোবাল লিজেন্ডস উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে কেইন উইলিয়ামসনের এই বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান ও রূপরেখা বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

২০১০ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে ব্ল্যাকক্যাপসদের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল কেইন উইলিয়ামসনের। এরপর থেকে নিজের অনবদ্য টেকনিক, শান্ত স্বভাব আর উইকেটে টিকে থাকার অদম্য মানসিকতা দিয়ে কিউই ক্রিকেটকে টেনে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। ক্রিকেটের তিন ফরম্যাট (টেস্ট, ওডিআই ও টি-টোয়েন্টি) মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডের জার্সিতে মোট ৩৭৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন এই মহাতারকা। সব ফরম্যাট মিলিয়ে ব্যাট হাতে তিনি সংগ্রহ করেছেন ১৯ হাজার ৩ শত ৪৬ রান, যা নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসে সব ফরম্যাট মিলিয়ে যেকোনো ব্যাটারের করা সর্বকালের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। এই বিশ্বমানের ক্যারিয়ারে তাঁর উইলো থেকে এসেছে ৪৮টি নান্দনিক আন্তর্জাতিক শতরান (সেঞ্চুরি) এবং ৬টি চোখ ধাঁধানো দ্বিশতরান (ডাবল সেঞ্চুরি)।

উইলিয়ামসনের এই অবসরের সিদ্ধান্তটি ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য কিছুটা আচমকা হলেও, আন্তর্জাতিক সূচির ধকল ও ফিটনেসের কথা বিবেচনা করে তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই নিজের ক্যারিয়ারকে ছোট করে আনছিলেন। গত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে তিনি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি (T20I) ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণ করেছিলেন, যাতে করে সাদা বলের ওয়ানডে এবং লাল বলের ঐতিহ্যবাহী টেস্ট ক্রিকেটে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন। তবে চলতি ২০২৬ সালের জুনে এসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সমস্ত ফরম্যাট থেকেই পুরোপুরি সরে দাঁড়ানোর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি নিলেন তিনি। এর ফলে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটে একটি গৌরবময় সোনালী প্রজন্মের (যার অধীনে নিউজিল্যান্ড প্রথম আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গদা জিতেছিল এবং ২০১৯ ওডিআই বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল) অন্যতম প্রধান স্তম্ভের প্রস্থান ঘটল।

ক্রিকেটীয় দক্ষতার পাশাপাশি কেইন উইলিয়ামসন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন তাঁর অতুলনীয় খেলোয়াড়সুলভ আচরণ ও ‘জেন্টলম্যান’ ইমেজের জন্য। ২০১৯ সালের লর্ডস বিশ্বকাপে বাউন্ডারি কাউন্টের অদ্ভুত নিয়মে বিতর্কিতভাবে ফাইনাল হেরে যাওয়ার পরও মুখে চওড়া হাসি নিয়ে যেভাবে তিনি ট্রফি ও পরিস্থিতি বরণ করেছিলেন, তা ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্রীড়াসুলভ কন্ডিশন হিসেবে যুগ যুগ ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে উইলিয়ামসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলা হয়েছে, কেইন কেবল মাঠের সেরা পারফরমারই ছিলেন না, বরং ড্রেসিংরুমের তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য ছিলেন একজন প্রকৃত মেন্টর ও লিডার। মাঠের চেনা সবুজ গালিচায় আর কখনোই কিউইদের ঐতিহ্যবাহী ‘২২ নম্বর’ জার্সিতে উইলিয়ামসনকে দেখা যাবে না—এই সত্যটি ক্রিকেট বিশ্বকে দীর্ঘকাল পোড়াবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকেরা।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন