ভুল ক্লিকে বদলে যেতে পারে শিক্ষার্থীর জীবন

প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৪:০১ অপরাহ্ণ
ভুল ক্লিকে বদলে যেতে পারে শিক্ষার্থীর জীবন
নিজস্ব প্রতিবেদক:স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের এই যুগে প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি এ সংক্রান্ত নিরাপত্তা ও সচেতনতা তৈরি হওয়া এখন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি। সাইবার অপরাধীরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশলে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলছে, যার বড় শিকার হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সাইবার জগতের নানাবিধ ঝুঁকি ও প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন করতে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে এক ফলপ্রসূ সাইবার নিরাপত্তা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শুক্রবার (১২ জুন) সকালে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা, সাইবার ক্রাইম সচেতনতা ও ডিজিটাল লিটারেসি খতিয়ান’ এবং ‘মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS), সাইবার পুলিশ সেন্টার (CPC) ও প্রমিজিং সিটিজেন উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে ভিকারুননিসায় আয়োজিত এই ক্যাম্পেইনের মূল বিষয়বস্তু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরা হলো।

প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) ডিআইজি সানা শামিনুর রহমান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিসির বিশেষ পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ এবং বিকাশের ইভিপি ও হেড অব এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স এ কে এম মনিরুল করিম। অনুষ্ঠানে ভিকারুননিসার ৬০০-র বেশি শিক্ষার্থী অত্যন্ত মনোযোগের সাথে সাইবার নিরাপত্তার খুঁটিনাটি বিষয়গুলো অনুধাবন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিআইডির ডিআইজি সানা শামিনুর রহমান শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রাক-কন্ডিশন মেনে চলার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “সাইবার অপরাধীরা সাধারণত প্রযুক্তির নিজস্ব ব্যাক-এন্ড দুর্বলতার চেয়ে মানুষের তাৎক্ষণিক অসতর্কতা ও সরলতাকেই তাদের অপরাধের সবচেয়ে বড় সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে। সচেতনতা ও পরিমিতিবোধই এ ধরনের ভার্চুয়াল অপরাধ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।” তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অ্যাকাউন্ট সুরক্ষায় শক্তিশালী আলফা-নিউমেরিক পাসওয়ার্ড ব্যবহার, ওটিপি (OTP) ও বিকাশ পিন নম্বর সম্পূর্ণ গোপন রাখা, যেকোনো চটকদার বা অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করা এবং ফেসবুকে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ না করার জন্য কড়া তাগিদ দেন।

সেমিনারের প্রধান বক্তা, অতিরিক্ত ডিআইজি জাহিদুল ইসলাম তার বক্তব্যে সামাজিক মাধ্যমে অপতথ্য ও গুজব ছড়িয়ে পড়ার মারাত্মক প্রভাবের কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে কোনো তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত না হয়ে কেবল আবেগের বশে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা যেমন একজন শিক্ষার্থীর বড় ধরনের ব্যক্তিগত বা আইনি ক্ষতির কারণ হতে পারে, তেমনি দেশের সামষ্টিক সমাজব্যবস্থাতেও এক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সচেতনতা, কঠোর আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং তথ্য যাচাইয়ের নিয়মিত অভ্যাসই সাইবার নিরাপত্তার প্রথম ও সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা ঢাল।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি মাজেদা বেগম সিআইডি ও বিকাশ কর্তৃপক্ষকে এই সময়োপযোগী উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সিআইডির এই কার্যকর কার্যক্রম থেকে শিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীরা কেবল নিজেদের ডিজিটাল জীবনই নিরাপদ করবে না, বরং তাদের নিজ নিজ পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজনকেও সুরক্ষিত করার সামাজিক প্রয়াস রাখবে।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন