ম্যাচিউরিটি নিয়ে নতুন বার্তা দিলেন কেয়া পায়েল
বিনোদন ডেস্ক:আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের ভেতরের পরিপক্বতা বা ম্যাচিউরিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসে। অনেকেই মনে করেন, জীবনের একটা নির্দিষ্ট বয়সে না পৌঁছালে বোধহয় গুরুগম্ভীর সিদ্ধান্ত নেওয়া বা বড় কোনো কাজের দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু পরিপক্বতা নিয়ে সমাজের এই চিরাচরিত ও প্রথাগত ধারণাকে সম্পূর্ণ একপাশে ঠেলে দিয়ে এক ভিন্ন ও বাস্তবমুখী দর্শন প্রকাশ করেছেন ছোট পর্দার এই প্রজন্মের অন্যতম জনপ্রিয় ও সফল অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। তিনি মনে করেন, ম্যাচিউরিটি কোনো বয়সের ফ্রেমে বন্দি জিনিস নয়, বরং মানুষের কাজের অভিজ্ঞতা ও সামাজিক মেলামেশাই এর মূল চাবিকাঠি।
আজ বুধবার (১০ জুন) অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘বিনোদন, গ্ল্যামার, ওটিটি ফ্ল্যাশ ও তারকা খতিয়ান’ এবং ‘ডিজিটাল কনটেন্ট, মুভি ট্রেইলার, রিভিউ ও রিলিজ ডেট ট্র্যাকিং উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে কেয়া পায়েলের সেই পডকাস্ট বার্তার বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরা হলো।
সম্প্রতি বিনোদন অঙ্গনের একটি জনপ্রিয় ডিজিটাল পডকাস্ট অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নেন কেয়া পায়েল। সেখানে আড্ডার ছলে তিনি তাঁর অভিনয় ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোর সংগ্রাম, বর্তমান ব্যস্ততা এবং ব্যক্তিজীবনের নানা চড়াই-উতরাইয়ের পাশাপাশি ম্যাচিউরিটি নিয়ে নিজের গভীর জীবনবোধের কথা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানান, পরিপক্ব বা ম্যাচিউর হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়স যেমন—৩০ বা ৩৫ বছর হওয়ার জন্য হাত গুটিয়ে বসে থাকার কোনো মানেই হয় না।
বয়স ও ম্যাচিউরিটির মধ্যকার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কেয়া পায়েল বলেন, “আমরা অনেকেই হয়তো জীবনের একটা সময়ে এসে চিন্তা করি যে, আমাদের বয়স ৩০ বছর পার হলে আমরা আরও বেশি ম্যাচিউর হবো, আর তারপরে গিয়ে বড় কোনো কাজ বা সিদ্ধান্ত নেবো। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলে, ম্যাচিউরিটিটা আসলে আসে তখনই, যখন একজন মানুষ প্রতিনিয়ত কাজ করতে থাকে। কাজ করতে করতেই মানুষ পরিপক্ব হয়। ম্যাচিউরিটিটা এমন না যে কেবল বয়সের সাথে সাথেই হবে; তবে হ্যাঁ, বয়সের সাথে সাথে মানুষের জীবনে এক ধরণের স্বাভাবিক ম্যাচিউরিটি বা শারীরিক-মানসিক পরিবর্তন তো আসেই।”
কেবল বয়সের গণ্ডিতে ম্যাচিউরিটিকে আটকে না রেখে একে আরও বিশদ ও মনস্তাত্ত্বিক জায়গা থেকে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন এই লাস্যময়ী তারকা। কেয়া পায়েলের মতে, একজন মানুষ নিয়মিত কেমন মানুষের সাথে মিশছে, কার সাথে কথা বলছে কিংবা কেমন সামাজিক পরিবেশে নিজের সময়টা অতিবাহিত করছে—তার ওপরেই মানুষের মানসিক বিকাশ এবং পরিপক্বতা অনেকাংশে নির্ভর করে।
এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রীর নিজস্ব ভাষ্য হলো, “ম্যাচিউরিটি আসলে তৈরি হয় আমাদের পুরো লাইফস্টাইল বা আমাদের যাপিত জীবনের পুরো জায়গাটা জুড়ে। আমরা প্রাত্যহিক জীবনে কার সাথে মিশছি, সমাজে কার সাথে কী ধরণের কাজ করছি—সবকিছুর ওপরেই এটি গড়ে ওঠে। আমরা জীবনের তাগিদে যত বেশি মানুষের সাথে মিশব, যত বেশি বৈচিত্র্যময় কাজ করব, আমাদের চিন্তাভাবনায় তত বেশি ম্যাচিউরিটি বা পরিপক্বতা আসবে।” পডকাস্টে কেয়া পায়েলের এমন জীবনমুখী ও ইতিবাচক বক্তব্য তাঁর ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।
জান্নাত সকালবেলা
|