হাদি হত্যা মামলায় জাবের বাদী কেন? প্রশ্ন বোন মাসুমার

প্রকাশ: শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০১:২৭ অপরাহ্ণ
হাদি হত্যা মামলায় জাবের বাদী কেন? প্রশ্ন বোন মাসুমার

অনলাইন ডেস্ক: শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের কেন, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের বোন মাসুমা হাদি। একই সাথে ভাইয়ের মামলার বাদী হওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নোংরামি’ ও ‘মিথ্যাচার’ চলছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে সেসময়ের পুরো প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন মাসুমা। সেই সাথে মামলার বাদীর স্বাক্ষর নেওয়া নিয়ে প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে মাসুমা হাদি লেখেন, "আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদী নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালানো হয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদী হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে, বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।" ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার দিনের ঘটনা বর্ণনা করে তিনি লেখেন, ভাইয়ের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর শোনা মাত্রই তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চলে যান এবং এক মিনিটের জন্যও ভাইকে ছেড়ে কোথাও যাননি।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মাসুমা বলেন, "আমি উপস্থিত থাকাকালীন প্রশাসনের লোক এভার কেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন (স্বাক্ষর) নিল কেন? এ নিয়ে বহুবার প্রশ্ন করা হলে আমাকে বোঝানো হয় যে ওমরের (ওসমান হাদির ভাই) কাছে নাকি যাওয়া হয়েছিল এবং ওমর বলেছে তারা এখন চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু আমি জানতে চাই, ঐ মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা কী ছিল তা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল, কারণ একই রিকশায় দুই ভাই ছিল। বুলেট যদি আর একটা বের হতো তবে ওমর হাদিও ওখানেই শেষ হয়ে যেতো।" উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারি মামলায় বাদীর ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই এবং বাদীপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ ঘটনার ভিত্তিতে আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে.

মামলার বাদীর ব্যাপারে তাদের পরিবারের সাথে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি দাবি করে মাসুমা হাদি বলেন, "আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘ দিন চলাফেরা করছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানেনা ভাইয়ের জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো, এটা পরিষ্কার করতে হবে।" ভাইয়ের চিকিৎসার ব্যয়ভার নিয়ে চলা মিথ্যাচারের জবাবে তিনি জানান, প্রথমে ওমর ফারুক একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে ৫২ লক্ষ্য টাকা দিয়ে থাইল্যান্ডের টিকিট কেটেছিলেন। ওমরের এই সিদ্ধান্তের কথা জানার পরেই সরকার মূলত ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয় এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় তাকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। পরিবারের বিরুদ্ধে চলা অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে না পারলেও না জেনে তার পরিবারকে নিয়ে অসম্মান করার অধিকার কারও নেই।

মন্তব্য করুন