‘অলৌকিক’ দাবি করা সেই গাছ কেটে ফেলল প্রশাসন

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৩৩ অপরাহ্ণ
‘অলৌকিক’ দাবি করা সেই গাছ কেটে ফেলল প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামে ঝড়ে উপড়ে পড়ার পর আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়া আলোচিত গাছটি অবশেষে কেটে ফেলেছে উপজেলা প্রশাসন। গাছটিকে ঘিরে কুসংস্কার, অলৌকিকতার দাবি এবং মাজারসদৃশ পরিবেশ তৈরির অভিযোগ ওঠার পর প্রশাসন এই পদক্ষেপ নেয়। আজ শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় গাছটি অপসারণ করা হয়। গাছটির মালিক একই গ্রামের প্রবাসী মো. রুহুল আমিন মুন্সি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে কালবৈশাখী ঝড়ে বচিয়ারা গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে থাকা গাছটি শিকড়সহ উপড়ে পড়ে। পরে গাছটির ডালপালা ও উপরের অংশ কেটে ফেলা হয়। তবে প্রায় ১০ দিন আগে আরেকটি ঝড়ের পর ডালপালাবিহীন গাছটির অবশিষ্ট কাণ্ড আবার অনেকটা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গাছটিকে ‘অলৌকিক ঘটনা’ কিংবা ‘জ্বিনের কাজ’ বলে প্রচার শুরু হলে প্রতিদিন শত শত মানুষ এটি দেখতে ভিড় করতে থাকেন। কেউ কেউ মানত করে আগরবাতি ও মোমবাতি জ্বালানো শুরু করেন, এমনকি গাছের শিকড় ও বাকল সংগ্রহ করে নিয়ে যান। একপর্যায়ে গাছের নিচে লাল কাপড় বাঁধা হয় এবং স্থানটিকে মাজারসদৃশ রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

তবে স্থানীয় সচেতন মহল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঘটনাটির স্পষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে। ঝড়ে উপড়ে পড়ার সময় শিকড়ের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ মাটি উঠে এসেছিল। পরে ডালপালা ও উপরের অংশ কেটে ফেলায় গাছের ভরকেন্দ্র পরিবর্তিত হয়। ফলে শিকড় ও মাটির ওজনের ভারসাম্যের কারণে কাণ্ডটি আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। আখাউড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সাব-অফিসার মো. নান্নু মিয়া বলেন, গাছটির মাথার অংশ কেটে ফেলায় উপরের অংশ হালকা হয়ে যায় এবং গোড়ার অংশ ভারী থাকায় এটি আবার দাঁড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, গাছটিকে ঘিরে মানুষের ব্যাপক সমাগম হচ্ছিল এবং যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। তাই গাছের মালিকের অনুমতি নিয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় এটি কেটে ফেলা হয়েছে। মালিক জানিয়েছেন, গাছ বিক্রির অর্থ কোনো মসজিদ বা মাদ্রাসায় অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন