নাসিরনগরে ৩৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

প্রকাশ: রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০৪:৫৪ অপরাহ্ণ
নাসিরনগরে ৩৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

মো. শরীফ উদ্দিন, নাসিরনগর প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে তীব্র শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার মোট ১২৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৩টি হাসপাতালেই প্রধান শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এর পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের আরও ৪৪টি পদ খালি থাকায় উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পদে নতুন নিয়োগ বা পদোন্নতি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেক বিদ্যালয়ে জুনিয়র শিক্ষকদের ‘ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক’ দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক ও একাডেমিক তদারকিতে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের রুটিন অনুযায়ী নিয়মিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলগুলোর অবস্থা আরও নাজুক। ফলে প্রান্তিক পর্যায়ের কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার মান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে।

নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান বাস্তব চিত্র তুলে ধরে জানান, “আমাদের বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৩৬৪ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। একজন স্থায়ী প্রধান শিক্ষক ও একজন সহকারী শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি। এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য এই কজন শিক্ষক নিয়ে প্রতিদিনের পাঠদান ও ক্লাসের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাসিরনগর সদরের অপর এক শিক্ষক বলেন, “বিদ্যালয়গুলোতে এমনিতেই শিক্ষকের তীব্র ঘাটতি রয়েছে। এর ওপর আবার সরকারি বিভিন্ন শুমারি, উপবৃত্তি ও দাপ্তরিক কাজের জন্য প্রায়ই শিক্ষকদের উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়। শিক্ষকরা ক্লাসের বাইরে ব্যস্ত থাকায় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

স্থানীয় সচেতন শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের দাবি, একজন প্রধান শিক্ষককে প্রায়ই বিভিন্ন প্রশাসনিক সভা ও সরকারি দাপ্তরিক কাজে স্কুলের বাইরে থাকতে হয়। ফলে সহকারী শিক্ষক যখন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন, তখন তাঁর নিজের ক্লাসগুলো পুরোপুরি বন্ধ থাকে। এই চেইন প্রতিক্রিয়ার কারণে সহকারী শিক্ষকের ঘাটতি সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

উপজেলার ভুক্তভোগী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নাসিরনগরের প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় অনতিবিলম্বে শূন্য পদগুলোতে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন