ক্রিকেটার নাসির ও তামিমার মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৫:১৫ অপরাহ্ণ
ক্রিকেটার নাসির ও তামিমার মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স না দিয়ে অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে বিয়ে করা, ব্যভিচার এবং মানহানির অভিযোগে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তাঁর স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১০ জুন (২০২৬) এই মামলার রায় ঘোষণা করবেন আদালত।

বুধবার (৬ মে ২০২৬) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে দীর্ঘ যুক্তি-তর্ক শুনানি শেষে রায়ের এই সুনির্দিষ্ট দিন ধার্য করেন।

এদিন আদালতে শুনানি চলাকালে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, “মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় বাদীপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্য এবং পিবিআই-এর তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের অপরাধের বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।” অন্যদিকে, অভিযুক্তদের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু দাবি করেন যে তাঁর মক্কেলরা সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং আদালতে তাঁরা খালাস পাওয়ার যোগ্য।

২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তামিমার প্রথম স্বামী মো. রাকিব হাসান বাদী হয়ে ঢাকার আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। ওই দিনই আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানা ও রাকিব হাসানের বিয়ে হয় এবং তাঁদের সংসারে ৮ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পেশায় কেবিন ক্রু তামিমা ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে ক্রিকেটার নাসির হোসেনের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং সেই বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে।

রাকিবের অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে আইনগত বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকা অবস্থাতেই তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন নাসির এবং তামিমাকে বিয়ে করেছেন, যা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। এই অনৈতিক সম্পর্কের কারণে রাকিব ও তাঁর নাবালিকা কন্যা মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়েছেন এবং সমাজে তাঁর অপূরণীয় মানহানি হয়েছে।

পরবর্তীতে পিবিআই ঘটনাটির তদন্ত করে দণ্ডবিধির ৪৯৪, ৪৯৭ ও ৫০০ ধারায় অপরাধের সত্যতা পেয়ে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। আদালত তা আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন (চার্জশিট) করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। পুরো বিচার প্রক্রিয়ায় বাদীপক্ষের মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ রায়ের এই তারিখ চূড়ান্ত হলো।

মন্তব্য করুন