নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের এনআইডি অনুবিভাগের করিডোরে এখন ভুক্তভোগীদের দীর্ঘশ্বাস। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে আসা ঝাড়ুদার রঞ্জিত বাবুর মতো অসংখ্য মানুষ জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য বারবার ঢাকায় এসেও সমাধান পাচ্ছেন না। বয়স সংশোধনের এখতিয়ার মাঠ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে এনআইডি মহাপরিচালকের হাতে ন্যস্ত করায় দূর-দূরান্তের সাধারণ মানুষকে এখন চরম ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে।
বর্তমানে এনআইডি সংশোধনের জন্য সাতটি ক্যাটাগরি (ক থেকে ঘ) নির্ধারণ করা হয়েছে। করণিক ভুল বা নামের সাধারণ বানান সংশোধনের ক্ষমতা উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে থাকলেও, বয়স সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ‘ঘ’ ক্যাটাগরির আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষমতা কেবল এনআইডি মহাপরিচালকের কাছে রাখা হয়েছে। এর ফলে ময়মনসিংহ থেকে আসা জান্নাতের মতো ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জেলা পর্যায়ে এই সেবা না পাওয়ায় ঢাকায় এসে থাকা-খাওয়ার পেছনে হাজার হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে, যা নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বড় বোঝা।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, মাঠ পর্যায়ে অসাধু কর্মচারীদের অনিয়ম ঠেকাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এতে হিতে বিপরীত হয়েছে। যেখানে সারা বিশ্বে সেবা মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে নির্বাচন কমিশন সেবাটি কেন্দ্রীয়করণ করে মানুষের কষ্ট বাড়িয়ে দিয়েছে। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এই প্রক্রিয়াকে ‘সেবার নামে অত্যাচার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কেবল বয়স সংশোধন নয়, পুরো নাম পরিবর্তন বা অন্যান্য জটিল তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত দলিলাদি ও শুনানির বাধ্যবাধকতায় মানুষ নাজেহাল হচ্ছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ বিষয়ে জানান, এনআইডি সংশোধনে স্বচ্ছতা আনতে এবং অসৎ উদ্দেশ্যে করা আবেদন ঠেকাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, এতে অনৈতিক অর্থ লেনদেন কমছে। তবে ভুক্তভোগীরা বলছেন ভিন্ন কথা। নামের বানান বা বয়স সংশোধনের জন্য অনলাইন জন্ম নিবন্ধন, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, ওয়ারিশ সনদ থেকে শুরু করে সিভিল সার্জনের রেডিওলজিক্যাল টেস্ট রিপোর্ট পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও রাজধানীমুখী যাতায়াতের কারণে সাধারণ মানুষ এখন এনআইডি সেবা নিয়ে দিশেহারা।
আই.এ/সকালবেলা