মাইগ্রেনের ব্যথা: লক্ষণ ও করণীয়

জান্নাতুল ফেরদৌস
প্রকাশ: শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ
মাইগ্রেনের ব্যথা: লক্ষণ ও করণীয়

স্বাস্থ্য ডেস্ক: মাথাব্যথা একটি সাধারণ সমস্যা মনে হলেও 'মাইগ্রেন' আসলে তার চেয়েও গভীর কিছু, যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে অচল করে দিতে পারে। এটি মূলত এক ধরনের বিশেষ মাথাব্যথা যা হঠাৎ শুরু হয় এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর বারবার ফিরে আসতে পারে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মো. আব্দুল হাফিজ এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন।

কারা বেশি ঝুঁকিতে? সাধারণত ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে মাইগ্রেনের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারী দীর্ঘ সময় ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন করেন, তাদের এই সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

কেন হয় মাইগ্রেন? মাইগ্রেনের সঠিক কারণ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে, তবে প্রধান দুটি কারণ হলো:

  • মানসিক চাপ: অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা ও মানসিক অবসাদ।

  • রাসায়নিক পরিবর্তন: মস্তিষ্কে 'সেরেটোনিন' নামক কেমিক্যালের ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়া।

প্রধান লক্ষণসমূহ: ১. একপাশে ব্যথা: সাধারণত মাথার যেকোনো এক অংশে তীব্র ব্যথা হয়। ২. ব্যথার স্থায়িত্ব: এই ব্যথা ৪ ঘণ্টা থেকে শুরু করে টানা ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ৩. বমি ভাব: ব্যথার সাথে বমি বমি ভাব হওয়া বা সরাসরি বমি হওয়া মাইগ্রেনের অন্যতম প্রধান লক্ষণ।

প্রতিরোধে করণীয়: মাইগ্রেন থেকে দূরে থাকতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি:

  • পেট খালি না রাখা: দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বেড়ে যায়, যা মাইগ্রেনের ব্যথাকে উসকে দেয়।

  • পর্যাপ্ত পানি পান: পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন মাইগ্রেনের একটি বড় কারণ। তাই সারাদিন প্রচুর পানি পান করতে হবে।

  • রোদ এড়িয়ে চলা: অতিরিক্ত কড়া রোদ বা অসহনীয় গরমে ঘোরাঘুরি করলে ব্যথা বাড়তে পারে। প্রয়োজনে ছাতা বা সানগ্লাস ব্যবহার করুন।

  • বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী মাইগ্রেন পুষে রাখলে পরবর্তীতে তা ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতায় রূপ নিতে পারে। তাই সঠিক সময়ে চিকিৎসা নেওয়া ও নিয়ম মেনে ওষুধ সেবন করা জরুরি।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন