যশোরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ খুন, স্বামী গ্রেপ্তার

প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৬:১৩ অপরাহ্ণ
যশোরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ খুন, স্বামী গ্রেপ্তার

আব্দুল্লাহ আল মামুন, যশোর: পারিবারিক কলহের জেরে যশোরের মণিরামপুরে শামীমা আক্তার তাসলিমা ওরফে ময়না (২২) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। 

আজ মণিরামপুর পৌরসভার মোহনপুর এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে নিহতের স্বামী হেলাল উদ্দীনকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিহত ময়না মোহনপুর গ্রামের মৃত ইব্রাহীম গাজীর মেয়ে। তিনি উপজেলার কুমারঘাটা মনোহরপুর গ্রামের কাদের শেখের ছেলে হেলাল উদ্দীনের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহ ও অশান্তির কারণে কয়েকদিন আগে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে চলে আসেন ময়না। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের এসে তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। এর আগেও একাধিকবার বনিবনা না হওয়ায় তিনি বাবার বাড়িতে চলে এসেছিলেন এবং পরে স্বামী এসে নিয়ে যেতেন।

নিহতের মা জানান, বুধবার রাতে তিনি মেয়ের সঙ্গেই একই ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। ভোরে নামাজ পড়ার জন্য ঘুম থেকে উঠে তিনি ময়নাকে বিছানায় না দেখে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশে ময়নার বোনের একটি নির্মাণাধীন ভবনের কাক্ষের ভেতর মেয়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। মরদেহ উদ্ধারের সময় ময়নার মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল এবং মুখ ও কপালে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন ছিল। মায়ের দাবি, তাঁর মেয়ে গর্ভবতী ছিলেন এবং স্বামী হেলাল উদ্দীনই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন।

হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত স্বামী হেলাল উদ্দীনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি তাঁর পরিবারকে জানানো হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্তে নেমে সন্দেহভাজন হিসেবে হেলাল উদ্দীনকে গ্রেপ্তার করে।

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু সাঈদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এরপর আটক স্বামী হেলাল উদ্দীনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন। পরে তাঁর স্বীকারোক্তি ও দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাশের একটি ডোবা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ওড়নাটি উদ্ধার করা হয়।

ওসি আরও জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও বিস্তারিত জানা যাবে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন